‘বিপজ্জনক পদার্থ’ সতর্কতায় পেন্টাগনের একাধিক ফ্লোরে লকডাউন
- 0


প্রকাশিত: জুন ১১ ২০২৬, ১৬:৩৭
প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনে সম্ভাব্য বিপজ্জনক পদার্থ সংক্রান্ত সতর্কতার জেরে বৃহস্পতিবার কয়েকটি ফ্লোর ও করিডোরে লকডাউন জারি করা হয় এবং কিছু এলাকা থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে পরে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত ভুয়া অ্যালার্ম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
ঘটনার শুরুতে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা একটি সম্ভাব্য বাতাসের মানগত সমস্যা শনাক্ত করে। এর পরপরই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভবনের কয়েকটি অংশে লকডাউন জারি করা হয় এবং কিছু কর্মীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেন, “পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা বায়ুর মান সংক্রান্ত একটি সমস্যা শনাক্ত করেছে। বিষয়টির গুরুত্ব নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ নির্দেশনা কার্যকর করা হয় এবং জরুরি সহায়তাকারি দল প্রস্তুত রাখা হয়।
প্রাথমিকভাবে তিনটি সূত্র এবং স্থানীয় ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছিল, ভবনে একটি “হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়ালস ইনসিডেন্ট” বা বিপজ্জনক পদার্থ সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে পেন্টাগনের ফোর্স প্রোটেকশন এজেন্সির বিশেষ হ্যাজম্যাট টিম এবং আর্লিংটন কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে অভিযান চালায়।
আর্লিংটন ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস সামাজিক মাধ্যমে জানায়, তাদের বিপজ্জনক পদার্থ মোকাবিলা দল পেন্টাগনে ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
পরে পেন্টাগনের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানায়, একটি “এয়ার কোয়ালিটি ইস্যু” শনাক্ত হয়েছে এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন। বার্তায় বলা হয়, পরীক্ষার কাজ শেষ হতে এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
এতে আরও বলা হয়, ভবনের কেন্দ্রীয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সংস্থার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে, তবে তা দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত কয়েকটি করিডোর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ভবনের নিরাপত্তা সদস্যদের গ্যাস মাস্ক ও পূর্ণাঙ্গ রাসায়নিক সুরক্ষা পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
তবে পরবর্তী তদন্ত ও পরীক্ষার পর সংশ্লিষ্ট দুইটি সূত্র সিএনএনকে নিশ্চিত করে যে পুরো ঘটনাটি একটি ভুয়া অ্যালার্ম ছিল। কোনো বিপজ্জনক রাসায়নিক বা ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত পেন্টাগনে নিরাপত্তা ঝুঁকির যেকোনো ইঙ্গিতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। ফলে সামান্য সন্দেহ দেখা দিলেও দ্রুত লকডাউন, সরিয়ে নেওয়া এবং বিশেষায়িত জরুরি দলের মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে।
