অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, নীতিকেই দায়ী করছেন অধিকাংশ আমেরিকান
- 0


প্রকাশিত: অক্টোবর ১ ২০২৬, ১৫:৫০
দ্রবমূল্যের উর্ধগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতির ওপর আস্থা কমছে বেশিরভাগ অ্যামেরিকানদের। নতুন এক জরিপে ৬৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক অ্যামেরিকান বলেছেন, উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পের নীতিই বেশি দায়ী এবং উচ্চমূল্যের কারণে নভেম্বরের নির্বাচনে তার পার্টির সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়তে পারে আশঙ্কা জানিয়েছেন।
এপি-এনওআরসি’র জরিপে বলা হয়, মাত্র ১৭ শতাংশ ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর কার্যক্রমে সমর্থন করছেন এবং অর্থনীতি পরিচালনায় অনুমোদন জানিয়েছেন ২৬ শতাংশ। ট্রাম্পের নীতি সংক্রান্ত এই জনমত এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।
দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের এই জরিপ এমন সময়ে প্রকাশ হলো, যখন আগামী নভেম্বরে অ্যামেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়ছে রিপাবলিকান পার্টি। ট্রাম্পও দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন।
জরিপে দেখা গেছে, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। প্রায় অর্ধেক অ্যামেরিকান বলেছেন, গাড়িতে জ্বালানি ব্যবহারের খরচ নিয়ে তারা অত্যন্ত বা খুব বেশি উদ্বিগ্ন। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৩৯ শতাংশ। একইভাবে প্রায় অর্ধেক মানুষ খাবারের খরচ মেটানো নিয়েও উচ্চ মাত্রার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনায় অনুমোদনের হার ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ১৪ পয়েন্ট কমেছে। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে অর্থনীতি তাঁর জন্য তুলনামূলক শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক বিষয় থাকলেও এখন সেই জায়গায় জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ হয়েছে বলে মনে করেন প্রায় ৭০ শতাংশ অ্যামেরিকান। তাদের মধ্যে রিপাবলিকানদেরও উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর কার্যক্রমে অসন্তোষ জানিয়েছেন। এপ্রিলের জরিপে এই হার ছিল প্রায় অর্ধেক।
তবে উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করার ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের অবস্থান সামগ্রিক জনমতের চেয়ে আলাদা। দলটির ৬৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন, এর জন্য ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণগুলোই বেশি দায়ী।
ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়েও জনমতে অসন্তোষ রয়েছে। জরিপে ৬৯ শতাংশ অ্যামেরিকান বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করা মূল্যসঙ্গত হয়নি। মাত্র ২৮ শতাংশ ট্রাম্প কীভাবে ইরান পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন, তাতে অনুমোদন দিয়েছেন।
বাণিজ্যনীতিতেও জনসমর্থন কমেছে। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় ট্রাম্পের কার্যক্রমে সমর্থন জানিয়েছেন প্রায় ৩০ শতাংশ অ্যামেরিকান। একই সময়ে ৬৪ শতাংশ মনে করেন, অন্য দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৫৮ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনে সমর্থন পাচ্ছেন প্রায় ৩০ শতাংশ অ্যামেরিকানের কাছ থেকে। প্রায় ৬০ শতাংশ মনে করেন, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময়ের তুলনায় অ্যামেরিকা এখন অনেকটা বা কিছুটা খারাপ অবস্থায় আছে। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা এখনো তাঁর তুলনামূলক শক্তিশালী বিষয়গুলোর একটি; এ ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক অ্যামেরিকান তাঁর কর্মকাণ্ডে অনুমোদন দিয়েছেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের অবস্থান ২০২২ সালে জো বাইডেনের সময়ের জনমতের সঙ্গে তুলনা করা হয়। ওই বছরের জুনে, করোনা মহামারির সময় রেকর্ড মূল্যস্ফীতির মধ্যে, বাইডেনের অর্থনীতি পরিচালনায় অনুমোদন ছিল ২৮ শতাংশ। তবে ওই সময় উচ্চমূল্যের জন্য বাইডেনের নীতিকে দায়ী করেছিলেন ৪৪ শতাংশ অ্যামেরিকান; ৫৫ শতাংশ দায় দিয়েছিলেন তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণকে। এবার ট্রাম্পের ক্ষেত্রে চিত্রটি উল্টো—৬৫ শতাংশ তাঁর নীতিকে উচ্চমূল্যের জন্য বেশি দায়ী করছেন।
