লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে জাওইয়া শহরে সামরিক প্রশিক্ষণের সময় মর্টার শেল বিস্ফোরণে নিরাপত্তা সংস্থার অন্তত ৯ সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে আল-হারশা এলাকায় একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
লিবিয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৮২ মিলিমিটারের একটি মর্টার শেল বিস্ফোরিত হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ জাওইয়ার পশ্চিমে সুরমান জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে ইস্তাম্বুলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আহরার টিভি জানিয়েছে।
বিস্ফোরণটি এন্টি থ্রেট সিকিউরিটি এজেন্সির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ঘটে। জাতিসংঘ স্বীকৃত লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবার নেতৃত্বাধীন এন্টি থ্রেট সিকিউরিটি এজেন্সি লিবিয়ার গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটি’র অধীনে কাজ করে। এজেন্সিটির যাচাইকৃত ফেসবুক পেজেও সরকারের অধীনে তাদের কাজ করার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় মর্টার শেলটি কীভাবে বিস্ফোরিত হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনাবশত গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হয়েছে, নাকি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সময় অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জাওইয়া শহরটি লিবিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা। দেশটির অন্যতম বৃহৎ চালু তেল শোধনাগার এখানে অবস্থিত। শহরটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
২০১১ সালে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে। দেশটির পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব এখনো রয়েছে।