ইরানে শিয়া মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল গাদির উপলক্ষে ২ হাজারের বেশি দণ্ডিত ব্যক্তিকে সাধারণ ক্ষমা বা তাদের সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেইর অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সাধারণ ক্ষমার আওতায় সাধারণ আদালত, বিপ্লবী আদালত, সামরিক ট্রাইব্যুনাল এবং বিভিন্ন সরকারি দণ্ড প্রতিষ্ঠান থেকে দণ্ডিত বন্দিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ইরানের বিচার বিভাগের কর্মকর্তা আলি মোজাফারি জানান, যেসব বন্দির বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই, যাদের কার্যকর অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং যারা কারাভোগের পর সংশোধনের লক্ষণ দেখিয়েছেন—তাদেরই এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বয়স, পারিবারিক অবস্থা এবং অপরাধের ধরনও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থার মূল নীতি হলো রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন। তবে কারাদণ্ড কার্যকরের সময় যদি দেখা যায় কেউ সংশোধিত হয়েছে, তাহলে তার সাজা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে।‘
তিনি আরও জানান, প্রায় দুই হাজার বন্দির মধ্যে অধিকাংশকেই দ্রুতই মুক্তি দেওয়া হবে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ, গুপ্তচরবৃত্তি, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ এবং জননিরাপত্তা হুমকির মামলার দণ্ডিতরা কোনোভাবেই এই ক্ষমার আওতায় আসবে না।
এ ছাড়া যেসব মামলায় ব্যক্তিগত অভিযোগকারী রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর সম্মতি ছাড়া ক্ষমা বা সাজা হ্রাস কার্যকর হবে না।
ইরানে ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে এ ধরনের সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। ঈদুল গাদির প্রতি বছর ১৮ জিলহজে পালিত হয়, যা ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী গাদির খুমের ঘটনায় নবী মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক হজরত আলী (রা.)-কে উত্তরসূরি ঘোষণার স্মরণে পালন করা হয়।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় ক্ষমা কমিটি ছুটির মধ্যেও দ্রুত সময়ের মধ্যে যোগ্য বন্দিদের তালিকা যাচাই করেছে। তারা দাবি করেছে, পুরো প্রক্রিয়া কেবল আইনগত ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে কোনো বাহ্যিক চাপের প্রভাব নেই।