ফুজিয়ান প্রদেশের বৃক্ষে আচ্ছাদিত অঞ্চলে হাঁটছিলেন কিন। দিনটি ১৩ সেপ্টেম্বর। হঠাৎ কুয়ানঝু এলাকার গভীর কুয়ায় পড়ে যান ৪৮ বছর বয়সী।
এরপর ৫৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মশা ও সাপের পাশে থেকে চীনা এ নারীর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার গল্প তুলে ধরেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এসসিএমপি।
সংবাদমাধ্যমটির বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, পরিত্যক্ত কুয়ায় পড়া কিনের নিখোঁজের খবর ১৪ সেপ্টেম্বর জানায় তার পরিবার। এর ভিত্তিতে তাকে শনাক্তে থার্মাল ইমেজিং ড্রোন মোতায়েন করে জিনজিয়াং রুইতং ব্লু স্কাই ইমার্জেন্সি রেসকিউ সেন্টার।
এসসিএমপির খবরে জানানো হয়, উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়েন কুয়ার দেয়াল ধরে ঝুলে থাকা কিন।
কুয়ায় ছিল মশা। কাছাকাছি ছিল সাপ। এর একটির ছোবলও খেয়েছেন কিন, কিন্তু সৌভাগ্যবশত সাপটি বিষধর না হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছেন এ মধ্যবয়সী।
একদিকে জীবন বাঁচাতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন কিন, অন্যদিকে তৎপরতা চালাচ্ছিলেন উদ্ধারকারীরা। তারা পানিতে ভাসমান কিনকে পান। তার হাত দুটি ছিল কুয়ার পিচ্ছিল দেয়ালের পাথরে। এ অবস্থায় উদ্ধারকারীরা কুয়ার পাশ থেকে লতাগুল্ম সরিয়ে নিরাপদে টেনে তোলেন তাকে।
কিনের সৌভাগ্য যে, তিনি জানতেন সাঁতার, যেটি তাকে কুয়ার দেয়ালে থাকা একটি পাথর ধরে ভেসে থাকতে সহায়তা করেছে। দুই দিন ঝুলে থেকে তার হাত দুটিতে মারাত্মক আঘাত লেগেছে।
কুয়ায় ঝুলে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কিন বলেন, ‘অনেকবার আমি হতাশায় ভেঙে পড়েছি। কুয়ার তলদেশটা ছিল নিকষ কালো। এটি ভর্তি ছিল মশায়। পাশেই সাঁতার কাটছিল কয়েকটি জলজ সাপ।’
তার ভাষ্য, গোটা গায়ে কামড়েছে মশা। বাহুতে একবার ছোবল দিয়েছে সাপ, কিন্তু এটি বিষধর না হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
উদ্ধারের পর জিনজিয়াং সিটি হসপিটালে ভর্তি করা হয় কিনকে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয় কুয়ানঝু ফার্স্ট হসপিটালে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল।