আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স-এআই ও ডিপফেকের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া বক্তব্য প্রচার, দূর্নীতি কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার ঘটনা নতুন নয়। প্রযুক্তির এ অপব্যবহার সামলাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা যখন হিমশিম খাচ্ছেন, তখন কণ্ঠস্বরের নকল ঠেকাতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিয়েছেন এক অভিনব উদ্যোগ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অফিসে (ইইউআইপিও) সোমবার নিজের কণ্ঠস্বরের ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন মেলোনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মেলোনির প্রশাসন ও ইইউআইপিও কর্তৃপক্ষ। কোনো বড় রাজনৈতিক নেতার সাউন্ড ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের জন্য আবেদনের ঘটনা এটিই প্রথম।
ইইউআইপিওর ওয়েবসাইটে জানানো হয়, কণ্ঠস্বরের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিবন্ধন আবেদনের পাশাপাশি নিজের একটি অডিওক্লিপ যুক্ত করেন মেলোনি।
৪ সেকেন্ডের ওই অডিওক্লিপে মেলোনি ইতালিয়ান ভাষায় পরপর দুইবার উচ্চারণ করেন, ‘আমি জর্জিয়া মেলোনি।‘
অডিওক্লিপে উচ্চারিত বাক্যটি হলো ২০২১ সালে প্রকাশিত জর্জিয়া মেলোনির আত্মজীবনিমূলক বইয়ের শিরোনাম। একইসঙ্গে ২০১৯ সালে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে মেলোনির দেওয়া একটি আলোচিত ভাষণেও বাক্যটি যুক্ত ছিল।
ইইউআইপিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেলোনির করা ট্রেডমার্কের আবেদনটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবেদনটি অনুমোদন পেলে কণ্ঠস্বরের অপব্যবহার রোধ করতে বাড়তি আইনি সুবিধা পাবেন মেলোনি।
কণ্ঠস্বরের ঝুঁকি ছাড়াও গত কয়েক বছরে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে মেলোনির বিভিন্ন ভুয়া ও বিকৃত ছবি প্রচার হতে দেখা গেছে। এর মধ্যে অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় মেলোনি বসে আছেন, এমন ছবিও দেখা যায়। অনেক সময় এসব ছবি আসল বিবেচনা করে শেয়ার হয়েছে।
তবে সববারই সাইবার সংক্রান্ত এসব অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মেলোনি। ২০২৪ সালে, ইতালির সার্দিনিয়ার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনলাইনে ডিপফেক পর্নোগ্রাফিক ছবি প্রচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন মেলোনি। মামলাটি ইতালির আদালতে বিচারাধীন আছে।