ফুড ডেলিভারির সময় জরুরি নম্বর ১১০ লেখা একটি সাদা বালিশ খুঁজে পেয়ে এক নারীকে উদ্ধার করতে সহায়তা করেছেন চীনের এক ডেলিভারি ম্যান।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, গত ১২ আগস্ট দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লেশানে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিদিনের মতো খাবার সরবারহ করতে বের হয়েছিলেন ডেলিভারি ম্যান ঝ্যাং।
এসময় একটি আবাসিক কম্পাউন্ডের কাছে রাস্তার পাশে গাঢ় লাল রঙয়ে লিখা ১১০ ৬২৫ নম্বর চিহ্নযুক্ত একটি সাদা বালিশ পড়ে থাকতে দেখেন। কেউ বিপদে পড়তে পারে এই আশঙ্কায় ঝাং দ্রুত পুলিশে খবর দেন।
নিকটবর্তী এক হোটেল কর্মচারীর সহায়তায় বালিশে লেখা নম্বর ১১০ ৬২৫ থেকে ৬ নম্বর ভবনের ২৫ তলায় একটি হোমস্টে খুঁজে পান পুলিশ। যেখানে ৬২৫ নম্বরটি ফ্লোর এবং ইউনিটের সাথে মিলে যায়।
অবশেষে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর পুলিশ আবিষ্কার করে হোমস্টের মালিক ঝৌ নামে একজন নারীকে যিনি দুর্ঘটনাক্রমে ৩০ ঘণ্টা তার শয়নকক্ষের ভেতরে তালাবদ্ধ ছিলেন।
ঝৌ জানান, তিনি ঐ ফ্ল্যাটে একাই থাকেন। রুম পরিষ্কার করার সময় হঠাৎ দমকা হাওয়ায় বেডরুমের দরজায় ধাক্কা লাগে। দরজাটি কোনোভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি ভেতরে আটকা পড়েন।
তার মোবাইল ফোনটি লিভিং রুমে থাকায় তিনি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
ঝাউ দরজায় লাথি ও ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পথচারীদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য তিনি জানালা থেকে একটি লাল স্যুটও ঝুলিয়ে রাখেন। তার বিছানা থেকে ফোম বোর্ডগুলো নীচে মাটিতে ফেলেন। কিন্তু তারপরও তার সংকেত কেউ খেয়াল করেনি।
খাবার ও পানি ছাড়াই ৩০ ঘণ্টা ধরে শোবার ঘরে আটকে থাকার পর ঝাউ চরম মানসিক যন্ত্রণা ও ভয়ে ভুগছিলেন।
সবশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে তিনি নিজের আঙুলে কামড় দিয়ে রক্ত বের করেন এবং সে রক্ত ব্যবহার করে একটি সাদা বালিশে ১১০ ৬২৫ লিখে জানালা দিয়ে ফেলে দেন।
চীনের জরুরি নম্বর হচ্ছে ১১০ এবং ৬৫২ হচ্ছে তার ফ্লোর ও তার রুম নম্বর।
ডেলিভারি ম্যান ঝাংয়ের তাৎক্ষনিক বুদ্ধিমত্তায় এ যাত্রায় বেঁচে ফেরেন ওই নারী। আর তাই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে ১,০০০ ইউয়ান উপহার দেয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে ঝাং তার উপহার গ্রহণের প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছেন।