দিল্লিতে সন্ত্রাসী হামলা:
হামলাকারীর ছোট্ট ভুলেই বাঁচল বহু প্রাণ, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ১২ ২০২৫, ১২:০৯

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি। ছবি: এনডিটিভি

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি। ছবি: এনডিটিভি

  • 0

তদন্তে জানা গেছে, এই সময়ের মধ্যে তিনি একবারও গাড়ি থেকে নামেননি এবং গাড়িটি এক মুহূর্তের জন্যও ফাঁকা রাখেননি।

স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটে প্রবেশ, সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে বের হওয়া। এর পরেই বিস্ফোরণ।

দিল্লির লাল কেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন চিকিৎসক উমর মুহাম্মদ প্রায় তিন ঘণ্টা একটি পার্কিং লটে ছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, এই সময়ের মধ্যে তিনি একবারও গাড়ি থেকে নামেননি এবং গাড়িটি এক মুহূর্তের জন্যও ফাঁকা রাখেননি।

তাহলে কি তিনি কারও অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন? নাকি শেষ মুহূর্তে দ্বিধায় পড়েছিলেন? উমারের এই রহস্যময় তিন ঘণ্টা নিয়ে দ্বিধায় গোয়েন্দারাও।

তদন্তের নতুন তথ্য এই ঘটনার একেবারে ভিন্ন দিক উন্মোচন করেছে।

তদন্তকারী সূত্রের দাবি, উমরের মূল পরিকল্পনা ছিল গাড়ির পেছনের সিটে রাখা বোমাটি লাল কেল্লার পার্কিং এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানো, যেখানে শীতকালে সাধারণত প্রচুর ভিড় থাকে।

তবে সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন উমর মুহাম্মদ। সেই অস্থিরতার মধ্যে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যান। আর সেটি হচ্ছে লাল কেল্লা সোমবার বন্ধ থাকে।

তিনি পার্কিং লটে পৌঁছান, কিন্তু সেখানে প্রত্যাশিত ভিড় ছিল না। যা তাকে হতাশ করে। তিনি ভাবতে থাকেন, এখন কী করবেন।

প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর উমর গাড়ি চালিয়ে বের হন নেতাজি সুভাষ মার্গে, যার একপাশে লাল কেল্লা এবং অন্যপাশে চাঁদনি চক।

কিছুক্ষণ পর লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি ট্রাফিক সিগন্যালের সামনে গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়।

ভয়াবহ বিস্ফোরণে আশেপাশের আরও কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনায় নয়জন নিহত ও ২০ জনের বেশি আহত হন।

পার্কিং লটে উমরের তিন ঘন্টা অপেক্ষা করা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে এই সময় তিনি ফরিদাবাদে বিশাল বিস্ফোরক উদ্ধার এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের খবর পড়ছিলেন। এর ফলে তার উপর কী প্রভাব পড়েছিল তা অনুমানের বিষয়।

ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলছে যে, আতঙ্কের কারণে হামলাকারী বিস্ফোরক ডিভাইসটি সঠিকভাবে একত্রিত করতে পারেননি। যার ফলে প্রভাব সীমিত ছিল। ফরিদাবাদে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার এবং উমরের কিছু সহযোগীকে গ্রেপ্তার করার ফলে এই আতঙ্কের সৃষ্টি হতে পারে।