
চার্লি কার্ককে হত্যায় আনন্দ প্রকাশের অভিযোগে চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫ ২০২৫, ১৩:১২
.jpg)
চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বহু পোস্ট এবং বার্তার ওপর করা নজর রাখা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
- 0
এক্সপোজ চার্লি’স মার্ডারার্স ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য হলো এই পোস্টকারীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা। ওয়েবসাইটটি আইসল্যান্ডের ঠিকানা ব্যবহার করে গোপনভাবে নিবন্ধিত।
ডানপন্থি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বহু পোস্ট এবং বার্তার ওপর করা নজর রাখা হচ্ছে। এসব পোস্টের মাধ্যমে কার্কের মৃত্যুতে আনন্দ উদযাপনকরীদের তথ্য রক্ষণশীল কর্মী, রিপাবলিকান নির্বাচিত কর্মকর্তা এবং একটি ডক্সিং ওয়েবসাইটের নজরে এসেছে।
তারা এই পোস্টগুলো করার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে অনলাইন প্রচারণা চালাচ্ছে।
ইউএস সেনেটর লরা লুমার জানান, ‘এক্সপোজ চার্লি’স মার্ডারার্স’ নামে একটি ওয়েবসাইট এই পোস্টের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করছে।
ওয়েবসাইটের দাবি, এটি ডক্সিং সাইট নয় এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০,০০০ পোস্ট জমা হয়েছে।
লরা লুমার এক্সে জানিয়েছেন, যারা কার্কের মৃত্যুকে উদযাপন করবে, তাদের পেশাগত ভবিষ্যত ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট ‘ট্রফি কেস’ নামে একটি তালিকা তৈরি করছে, যেখানে চাকরি হারানো মানুষের নাম দেওয়া হচ্ছে।
চার্লি কার্ক হত্যার পেছনে কে দায়ী হতে পারে এমন বক্তব্য দেওয়ার কারণে এমএসএনবিসি তাদের সিনিয়র বিশ্লেষক ম্যাথিউ ডাউডকে বরখাস্ত করেছে। এই বরখাস্তের পর ডনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে নিশ্চিত করেন, ডাউডকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তিনি শুনেছেন আরও লোক বরখাস্ত হচ্ছেন।
চার্লি কার্কের হত্যার পরে সামাজিক মাধ্যমে তার মৃত্যু উদযাপন বা মন্তব্যের কারণে অনেক মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন।
মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটির একজন কর্মী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন ‘কার্কের মৃত্যুতে কোনও সহানুভূতি নেই’ । যার জেরে ইউনিভার্সিটি সেই কর্মীকে দ্রুত বরখাস্ত করেছে।
দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রতিনিধি ন্যান্সি মেসও এক পাবলিক স্কুলের শিক্ষকের বরখাস্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
কিছু প্রাইভেট কোম্পানি যেমন ফ্রেডির ফ্রোজেন কাস্টার্ড অ্যান্ড স্টেকবার্গার এবং ক্যারোলিনা প্যান্থার্স, এই ধরনের পোস্টের কারণে কর্মচারীদের বরখাস্ত করেছে।
এছাড়া ডিসি কমিকস তাদের নতুন রেডহুড সিরিজ বাতিল করেছে, কারণ এর লেখক গ্রেচেন ফেল্কার-মার্টিন সামাজিক মাধ্যমে চার্লি কার্কের মৃত্যুর বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাইভেট কোম্পানিগুলো সামাজিক মাধ্যমে পোস্টের মতো সাধারণত যে কোনো কারণে কর্মচারী বরখাস্ত করতে পারে। সরকারি খাতেও কিছু নিয়ম আছে, তবে যদি কোনো পোস্ট কাজকর্মে বড় সমস্যা সৃষ্টি করে, তবে কর্মীকে বরখাস্ত করা যেতে পারে।
চার্লি কার্কের হত্যার পরে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কোনো পোস্টে শুধু লেখা ছিল, “দুনিয়া চলছে।”
তবে এক্সপোজ চার্লি’স মার্ডারার্স ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য হলো এই পোস্টকারীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা। ওয়েবসাইটটি আইসল্যান্ডের ঠিকানা ব্যবহার করে গোপনভাবে নিবন্ধিত।
ওয়েবসাইটের নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি যাদের তথ্য শেয়ার করছে তাদের মূলত কার্কের হত্যার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে তারা সামাজিক মাধ্যমে হ্যারাসমেন্টের সুযোগ সৃষ্টি করছে।