আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে স্বাধীন কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ক্লাবটি জানায়, কমিশনের প্রতিবেদনে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভুল রয়েছে এবং রায়টি নিরাপদ নয় বলে মনে করছে তারা।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আপিলটি দাখিল করা হয়েছে, যা ছিল শুক্রবারের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই। এর আগে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া দীর্ঘ তদন্তের পর মঙ্গলবার প্রকাশিত রায়ে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘনের সব অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগেও ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
তবে ম্যানচেস্টার সিটি শুরু থেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছে। ক্লাবটি বলেছে, তাদের অবস্থানের পক্ষে এই মামলায় ‘অখণ্ডনীয়’ প্রমাণ রয়েছে।
এদিকে প্রিমিয়ার লীগের নিয়ম অনুযায়ী, সিটির বিরুদ্ধে রায় দেওয়া তিন সদস্যের কমিশনের চেয়ারম্যান নতুন একটি আপিল বোর্ড নিয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন। তিন সদস্যের ওই বোর্ডে অন্তত একজন এমন ব্যক্তি থাকবেন, যিনি বিচারিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আপিল দাখিলের পর ১২ সপ্তাহের মধ্যে শুনানি শেষ করার কথা রয়েছে এবং শুনানি টানা পাঁচ দিনের বেশি চলতে পারবে না। সিটির শাস্তির বিষয়টি আলাদা ও গোপনীয় শুনানিতে নির্ধারণ করা হবে। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে তিরস্কার, জরিমানা, নিষেধাজ্ঞা, পয়েন্ট কেটে নেওয়া কিংবা প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারও রয়েছে। এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবল লিগ থেকে কোনো ক্লাবকে বহিষ্কার করা হয়নি।
এদিকে ইংল্যান্ডের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’ এফএ জানিয়েছে, এই রায়ে ফুটবলের ‘সততার’ ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। সংস্থাটি রায় ও এর প্রভাব পর্যালোচনা করছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।