ভারতের বেঙ্গালুরুতে গাড়িতে তুলে ছোট ভাইকে হত্যা করে তার মরদেহ লেকে ফেলে দিয়েছেন এক তরুণ।
এনডিটিভি শুক্রবার জানায়, ভুক্তভোগী ২৪ বছর বয়সী ধনরাজের সহিংস ও অপরাধমূলক আচরণের ইতিহাস রয়েছে। তার ২৮ বছর বয়সী বড় ভাই শিবরাজ এটি মেনে নিতে পারতেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা কালাবুরাগি জেলার বাসিন্দা।
পেশায় ট্যাক্সি ক্যাবের চালক শিবরাজ তার দুই বন্ধু ২৪ বছরের সন্দীপ ও ২৬ বছরের প্রশান্তকে সঙ্গে নিয়ে সহোদরকে হত্যার পরিকল্পনা করে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বড় ভাই শিবরাজ পুলিশকে জানান, গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন ধনরাজ, যিনি একাধিক চুরি, মদ্যপান ও প্রায়ই মারামারিতে জড়িত ছিলেন।
শিবরাজ আরও জানান, আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললে ধনরাজ প্রায়ই তার মা-বাবাকে মারধর করতেন। বড় ভাইয়ের ওপরও হাত তুলতেন তিনি। এর বাইরে প্রতিবেশীরা প্রায়ই ধনরাজের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন ও গবাদি পশু চুরির মতো অভিযোগ করতেন।
ছোট ভাইয়ের এসব জ্বালাতন সইতে না পেরে শিবরাজ তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানায় পুলিশ। গত ২ নভেম্বর চাকরি দেওয়ার কথা বলে ধনরাজকে বেঙ্গালুরুতে ডেকে আনেন শিবরাজ।
পরে দুই বন্ধুসহ ধনরাজকে বানেরঘাটা-নাইস রোড থেকে ধনরাজকে তুলে নেন তার বড় ভাই। গাড়িতে চালক বড় ভাইয়ের পাশের সিটেই বসেন ধনরাজ।
গাড়িতে বসে মোবাইল দেখার সময় ধনরাজকে পেছন থেকে জাপটে ধরেন সন্দীপ ও প্রশান্ত। এরপর শিবরাজ গলায় চাপাতির কোপ বসিয়ে গাড়ির ভেতরেই হত্যা করেন ছোট ভাইকে।
হত্যার পর তিনজন মিলে মরদেহ ফেলেন বানেরঘাটা-কাগালিপুরা সড়ক সংলগ্ন লেকে। এ ছাড়া গাড়ির ফ্লোর ম্যাট ও চাপাতিটি তারা ফেলেন ইলেকট্রনিক সিটি-নাইস রোডের কাছে।
গত ৬ নভেম্বর ধনরাজের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুর দিকে পুলিশ একে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে ধারণা করলেও ফৌজদারি অপরাধ সন্দেহ করেনি বাহিনীটি।
যদিও বেসরকারি একটি কোম্পানির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গাড়িটিকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে মরদেহ ফেলা হচ্ছে। এটিই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এরপর গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে বানেরঘাটা পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করে।
হত্যার ঘটনায় একটি মামলা করে অভিযুক্তদের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।