জাতিসংঘসহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থার সতর্কতা উপেক্ষা করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে মালয়েশিয়া। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রত্যাবাসন পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, পুলিশি পাহাড়ার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার ডজনখানেক বাসে করে প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়ার উত্তরপশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত লুমুত নৌ ঘাঁটির পার্শ্ববর্তী একটি স্টেডিয়ামে পৌঁছান। ওই সময় গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থলের ভিতর প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে ঘাঁটি থেকে জাহাজে করে মিয়াময়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এ শরনার্থীরা।
কর্তৃপক্ষের দাবি, শরণার্থীরা সবাই স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত যাচ্ছেন। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার-ইউএনএইচসিআর জানায়, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ এখনও মিয়ানমারে তৈরি হয়নি। একইসঙ্গে এই প্রত্যাবাসন কর্মসূচীতে ইউএনএইচসিআরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানায় সংস্থাটি।
রোহিঙ্গাদের জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা মিয়ানমার জান্তা সরকারের নির্যাতন, গণহত্যা ২০১৭ সালে এক ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই সময় জনগোষ্ঠীর বিশাল এক অংশ নিজ দেশ থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেয়।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মালয়েশিয়াতে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল। অন্যদিকে ওই সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী।
সেপ্টেম্বর মাসে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা মিন অং হ্লাইং মালয়েশিয়া সফরে আসলে এক গোপন বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে চুক্তি সই করে দেশটির সরকার।
অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলমান থাকলেও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।