


প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯ ২০২৬, ১৩:২৫ হালনাগাদ: অক্টোবর ১৯ ২০২৬, ১৫:১৬

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ছবি: রয়টার্স
ফ্রান্সে শিক্ষাখাতে শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের মানোন্নয়ন, অর্থায়ন বৃদ্ধির দাবি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ ও ব্যাপক সহিংসতার পর রবিবার (১৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ভাষণ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান এ বিক্ষোভে এটিই টেলিভিশনে দেওয়া ম্যাক্রোঁর প্রথম ভাষণ।
প্রায় দশ মিনিটের ওই ভাষণে ম্যাক্রোঁ বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো যৌক্তিক বলে অভিহিত করলেও, সহিংসতা ও সরকারি অবকাঠামো ভাঙচুরের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
ভাষণে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পাশাপাশি ভাংচুর, লুটপাটের শিকার হওয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন ম্যাক্রোঁ । দ্রুত সহযোগিতা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর নেতৃত্বে একটি ক্রাইসিস সেল গঠন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গত শনিবার আন্দোলন চলাকালীন ফ্রান্সের লিমোজ শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক টাউন হল, লিঁও শহরের পর্যটন কার্যালয়ে অগ্নি সংযোগ করেন বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ।
ওইদিন প্যারিস, বোর্দো,মার্সেইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে লুই ভিতোঁ, রোলেক্স, সেলিন, হার্মাস, অ্যাপলের প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক ব্র্যান্ডের দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় হামলাকারীরা। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়সহ মেয়রের বাসভবন, প্রিফেক্সের কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়।
এ পরিস্থিতিতে ভাষণে সহিংসতার মুখোমুখি হওয়া মেয়র, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানান ম্যাক্রোঁ। তবে বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি আদায়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বার্তা দেননি তিনি।
বিক্ষোভকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন ম্যাক্রোঁ
ম্যাক্রোঁর ভাষ্য, চলতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভটি ছিল শুধু তাদের দাবি আদায়ের আন্দোলন। বিক্ষোভের দুই সপ্তাহ পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো যোগ দিলে ওই সময় সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলগুলোও অংশ নেয় বলে দাবি করেন তিনি।
ম্যাক্রোঁর অভিযোগ, উগ্র ডানপন্থী ও বামপন্থী দল, বিশেষ করে ম্যাক্রন সরকারের বিরোধিতাকারী হিসেবে পরিচিত ইয়েলো ভেস্টের প্রতিনিধি ও অপরাধীরা আন্দোলনটির গতিপথ পরিবর্তন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন।
এছাড়াও, আগামী বছর আসন্ন ফ্রান্সের সাধারণ নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে উগ্র ডানপন্থী ও বামপন্থী দলগুলো কর্তৃক আন্দোলনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে একাধিকবার মন্তব্য করেন তিনি।
গতকালের ভাষণেও ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যৌক্তিক দাবি তুলে ধরতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ বিক্ষোভকারী ও সহিংস কর্মকাণ্ড চালানো গোষ্ঠী এক নয়।‘
তিনি আরও বলেন, ‘যারা ধ্বংস করেছে তাদের জরিমানা দিতে হবে, যারা লুটপাট ও ভাংচুর করেছে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং যারা প্রজাতন্ত্রের উৎখাতের চেষ্টা করেছে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।‘
দাবি আদায় নিয়ে অস্পষ্ট অবস্থান
সাধারণ বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ও তার সরকার শিক্ষা ও জীবনযাত্রায় ব্যয় সংক্রান্ত দাবিগুলোর বিষয়ে গুরুত্ব কিংবা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এ অবস্থায় অনেকে মনে করছেন, দাবি পূরণে আলোচনা বিলম্বিত করে ম্যাক্রোঁ আন্দোলন দীর্ঘায়িত করার পথ তৈরি করেছেন।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় এ দেশটি এখন গভীর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। ফ্রান্সের সরকারি ঋণ এখন জিডিপির ১১৯.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগামী বছর আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী শিক্ষাখাতে বড় ধরনের বরাদ্দ দেওয়া ম্যাক্রোঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না।
অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষাখাতের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো জীবনযাত্রার ব্যয়সহ বিভিন্ন ইস্যু যোগ করে বিক্ষোভে যোগ দিলে ওই সময় তাৎক্ষণিক দাবি মেনে নেওয়াকে রাজনৈতিক দূর্বলতা মনে করতে পারেন ম্যাক্রোঁ, যা আন্দোলনের সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়।
