ভারতের গ্রেটার নয়ডায় যৌতুকের দাবিতে ছেলের সামনে এক নারীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হিন্দুস্তান টাইমস শনিবার জানায়, ওই নারীর গায়ে আগুন ধরানোর আগে তাকে মারধর করেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দিল্লির একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
ভুক্তভোগীকে নিক্কি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার স্বামীর নাম ভিপিন। গ্রেটার নয়ডার সিরসা গ্রামে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি।
এনডিটিভি জানায়, নিক্কি-ভিপিন দম্পতির বিয়ে হয় ২০১৬ সালে। যৌতুকের জন্য নিক্কির ওপর নিপীড়ন শুরু হয় ছয় মাসের বেশি সময় আগে।
কী আছে ভিডিওতে
নিক্কির ওপর অত্যাচারের একটি ভিডিও ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যেখানে দেখা যায়, স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন ওই নারীকে মারধর করছেন।
ফুটেজে ওই নারীর গায়ে আগুনের পাশাপাশি তাকে মেঝেতে বসা অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ঘটনার হতবাক করা কিছু বিবরণ সামনে এসেছে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সামনে ওই নারীর গায়ে আগুন ধরানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বালকটি জানায়, লাইটার দিয়ে আগুন ধরানোর আগে তার মার গালে চড় মারা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বেশ কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌতুক হিসেবে ৩৬ লাখ রুপি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নিক্কির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন স্বামী ও তার স্বজনরা।
একই পরিবারে বিয়ে হওয়া নিক্কির বড় বোনের দাবি, স্বামীর দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তার বোনের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর প্রতিবেশীরা প্রথমে ভুক্তভোগীকে ফোর্টিস হসপিটালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে রেফার করা হয় দিল্লির সাফদারজং হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় নারীর।
গ্রেটার নয়ডা পুলিশ ভুক্তভোগীর স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর ও দেবরের নামে মামলা করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার-ডিসিপি সুধীর কুমার জানান, সাফদারজং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় নারীর। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নিয়ে পুলিশ সাফদারজং হাসপাতালে যায়।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীর বোনের অভিযোগের ভিত্তিতে কাসানা থানায় মামলা করা হয়েছে। এরই মধ্যে নারীর স্বামী ভিপিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে গঠন করা হয়েছে পুলিশের টিম।