
‘ক্যাচ অ্যান্ড রিভোক’: অভিবাসীদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া বার্তাটি কী

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ৪ ২০২৫, ২২:৪৭

প্রতীকী ছবি
- 0
সেক্রেটারি অব স্টেইট মার্কো রুবিও নতুন তথাকথিত ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিভোক’ নীতি ঘোষণা করেন। এ নীতির অধীনে অ্যামেরিকায় ভ্রমণে থাকা বিদেশি কিংবা দেশটিতে অবস্থানরত অভিবাসীরা আইন ভঙ্গ করলে প্রথমবারেই তাদের ভিসা বাতিল হতে পারে।
অ্যামেরিকায় অবস্থানরত বিদেশি ও অভিবাসীদের জন্য কড়া এক বার্তা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর সারমর্ম হলো কোনো অপরাধে জড়িত হলে দ্বিতীয় সুযোগ না দিয়ে ভিসা বাতিল।
ক্যাচ অ্যান্ড রিভোক কী
ইউএসএ টুডে জানায়, সেক্রেটারি অব স্টেইট মার্কো রুবিও নতুন তথাকথিত ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিভোক’ নীতি ঘোষণা করেন। এ নীতির অধীনে অ্যামেরিকায় ভ্রমণে থাকা বিদেশি কিংবা দেশটিতে অবস্থানরত অভিবাসীরা আইন ভঙ্গ করলে প্রথমবারেই তাদের ভিসা বাতিল হতে পারে।
রুবিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘বর্তমানে আইন লঙ্ঘন করামাত্র সাজার নীতি: ক্যাচ অ্যান্ড রিভোক নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, সরকার অ্যামেরিকার নাগরিক নয় এমন ব্যক্তিদের আইন ভঙ্গ করার পর ধরামাত্রই তার স্ট্যাটাস কেড়ে নিতে (ভিসা বাতিলে) ব্যবস্থা নেবে।
এ নীতির প্রথম ঘোষণাটা মূলত দেওয়া হয়েছিল ৩০ এপ্রিল রুবিরও লেখা এক নিউজলেটারে। সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে (যার মধ্যে পারিবারিক সহিংসতা এবং হেনস্তা অন্তর্ভুক্ত) দোষী সাব্যস্ত অভিবাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
নীতি ঘোষণায় যেসব অপরাধে ভিসা বাতিল করা হবে, তার ব্যাপ্তি ও ধরন সুনির্দিষ্ট করা হয়নি।
আইন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের
ট্রাম্প প্রশাসনের সুদূরপ্রসারী কঠোর ব্যবস্থা চলমান থাকায় নতুন নীতির অধীনে আইনের সম্ভাব্য বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
লিবারটারিয়ান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ইমিগ্রেশন স্টাডিযের পরিচালক ডেভিড বিয়ার নতুন নীতিকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয় বলেন, এটি অ্যামেরিকার অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘অন্য সুযোগ থাকা ধনী ও দক্ষ লোকজন এমন একটি দেশে বসবাস শুরু করবে না, যেখানে মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য নোটিশ পাওয়া কিংবা অবৈধ লেমনেড স্ট্যান্ড পরিচালনার জন্য তাদের জীবন বরবাদ হয়ে যেতে পারে।’
ভিসা নিয়ে রুবিওর অবস্থান
পর্যটক, শিক্ষার্থী, শিশু লালনপালনকারী, উদ্যোক্তা, দম্পতি, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তান এবং অন্য ক্যাটাগরির পর্যটক ও বাসিন্দাদের জন্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয় স্টেইট ডিপার্টমেন্ট।
রুবিও জানান, তার অধীনে থাকা স্টেইট ডিপার্টমেন্ট এখন পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, অধিকার নয়।
অতি সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রতিবাদ করা কিংবা ফিলিস্তিনপন্থি বক্তব্য দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের আক্রমণাত্মকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো সামান্য আইন ভঙ্গের ঘটনাতেও শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যামেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো অ্যারন রিচলিন মেলনিক বলেন, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য নোটিশ পাওয়া লোকজনের কাছ থেকেও শিক্ষার্থী ভিসা কেড়ে নিয়েছে প্রশাসন।
তিনি এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেন, এখন তারা প্রত্যেকের সঙ্গে একই কাজ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে ট্রাম্প প্রশাসন হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও তাদের সমর্থকদের আদালতে করা অসংখ্য চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন তার সিদ্ধান্ত বদলায়।