Skip to main content

গালফ নিউজের প্রতিবেদন
এক ছাদের নিচে থেকেও ১০ বছর কথা বলেননি স্বামী-স্ত্রী

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৮ ২০২৫, ২০:৪৩

দাম্পত্যগত যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মানসিক ক্ষতি হতে পারে মারাত্মক। ছবি: গালফ নিউজ

দাম্পত্যগত যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মানসিক ক্ষতি হতে পারে মারাত্মক। ছবি: গালফ নিউজ

  • 0

কেরালার দম্পতির ঘটনাটি অনেককে হতবাক করেছে। এটি জেনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা এ ধরনের দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার পরিণতি নিয়ে সতর্ক করেছেন।

এক ছাদের নিচে বাস। অথচ একজনের সঙ্গে আরেকজনের নেই আলাপ। এভাবে কেটে গেছে ১০ বছরের বেশি সময়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে ভারতের কেরালার এক দম্পতির মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

গালফ নিউজ শুক্রবার জানায়, বৈবাহিক সম্পর্ক ‘টিকিয়ে রাখতে’ নজিরবিহীন নীরবতার আশ্রয় নেয় দম্পতিটি। তাদের ঘটনাটি নজরে আসে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন শারজাহ-আইএএসের কমিউনিটি সহায়তা একটি উদ্যোগের মাধ্যমে।

শারজাহতে কেরালার দুজন নারীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রবাসী পরিবারগুলোকে সমর্থন দিতে গত ২ আগস্ট উদ্যোগটি নেয় আইএএস।

কেরালার দম্পতির ঘটনাটি অনেককে হতবাক করেছে। এটি জেনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা এ ধরনের দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার পরিণতি নিয়ে সতর্ক করেছেন।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বারবার ঝগড়া ও সংঘাত নিরসনে ব্যর্থতা এ দম্পতিকে ক্ষতিকর কৌশল নিতে বাধ্য করে। আলাদা হওয়ার পরিবর্তে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন তারা, যাতে করে ভবিষ্যৎ ঝগড়া বা দ্বন্দ্ব এড়ানো যায়।

দম্পতিরা কেন বিচ্ছেদের পরিবর্তে নীরবতা বেছে নেন?

আবুধাবির বুরজিল হসপিটালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নাদা ওমর এলবাশির জানান, এ ধরনের দীর্ঘ নীরবতার মূল কারণগুলো হলো সংঘাত এড়াতে চাওয়া, দ্বন্দ্ব বাড়ার ভয় কিংবা জটিল সংকট সমাধানের অক্ষমতা।

তার ভাষ্য, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নীরবতা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কিংবা সংঘাতহীন সহাবস্থানের উপায় হয়ে যায়।

এ বিশেষজ্ঞের মতে, মানসিক বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও বিচ্ছেদের ভয়, আর্থিক নির্ভরশীলতা, আবেগগত জড়তা এবং সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক চাপে লোকজন একসঙ্গে থাকেন।

পারিবারিক সহিংসতা ও আত্মহত্যার চিন্তা

দাম্পত্যগত বিচ্ছিন্নতার মানসিক ক্ষতি হতে পারে মারাত্মক।

এলবাশির সতর্ক করে জানান, দীর্ঘ নীরবতা আবেগীয় অসাড়তা, দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যগত চাপ তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অনিষ্পত্তিকৃত বিরক্তি ও বিচ্ছিন্নতার পরিণতি হতে পারে আবেগীয় ভাঙন, পারিবারিক সহিংসতা, আত্মহত্যার চিন্তা ও অন্যান্য সংকট।

সি-পিটিএসডি

আমিরাতের জুমেইরাহর মেডকেয়ার কামালি ক্লিনিক নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শ্রীবিদ্যা শ্রীনিবাস জানান, মানসিকভাবে পীড়াদায়ক বা সংঘাতপূর্ণ সম্পর্কগুলোর ফল হতে পারে অবসাদ, দ্বিধা, অপরাধবোধ, অসহায়ত্ব এবং আত্মমূল্যের গভীর ক্ষয়।

তিনি জানান, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্পর্কে থাকা ব্যক্তি কমপ্লেক্স পোস্ট-ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার তথা সি-পিটিএসডিতে ভুগতে পারেন।