গাযায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনে লজিস্টিক প্রস্তুতি শুরু

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১ ২০২৬, ১৭:১০

ইসরায়েল, গাজা ও মিশরের সীমান্তে অবস্থিত কেরেম শালোম ক্রসিং। ছবি: রয়টার্স
- 0
মূলত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাযা উপত্যকায় হামাসের নিয়ন্ত্রণমুক্ত এলাকাগুলোতে মানবিক আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি পাইলট প্রজেক্ট চালু করতে যাচ্ছে বোর্ড অব পিস। রাফাহর কাছে অবস্থিত তেল-আল সুলতান এলাকাটিকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।
গাযা উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম লজিস্টিক বহর ইসরায়েলের কেরেম শালোম ক্রসিংয়ের কাছাকাছি ‘এনডিউরেন্স’ এলাকায় অবস্থান করছে। যেখানে গাযায় প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল স্টাবিলাইজেশন ফোর্স তথা আইএসএফ-এর জন্য জায়গা নির্ধারিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশ করে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
মূলত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাযা উপত্যকায় হামাসের নিয়ন্ত্রণমুক্ত এলাকাগুলোতে মানবিক আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি পাইলট প্রজেক্ট চালু করতে যাচ্ছে বোর্ড অব পিস। রাফাহর কাছে অবস্থিত তেল-আল সুলতান এলাকাটিকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।
বোর্ডের অধীনে থাকা এবং আলবেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মরক্কোর মতো দেশগুলোর সেনাদের সমন্বয়ে গঠিত বহুজাতিক বাহিনী ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ এই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন হবে। সে লক্ষ্যেই কৌশলগত এই লজিস্টিক বহর পাঠানো হয়েছে। তবে কোনো স্থায়ী কংক্রিটের স্থাপনা নয়, বরং এখানে বাস্তুচ্যুতদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাইলট প্রকল্প হিসেবে ভ্রাম্যমাণ ক্যারাভান ঘর দেয়া হবে।
গাযা শান্তিচুক্তির দ্বিতীয় ধাপের এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে হামাস। হামাসের মুখপাত্র হাযেম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, বোর্ড অব পিস-এর লজিস্টিক সাপোর্ট এরিয়া ‘এনডিউরেন্স’-এ প্রথম কৌশলগত যানবাহন পৌঁছানোর যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, এই মোতায়েন যেন ইসরায়েলের চুক্তি লঙ্ঘন বন্ধের একটি প্রকৃত সূচনা হয় এবং এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য প্রকৃত সুরক্ষা প্রদান করে।
অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের এই প্রস্তুতির মাঝেই স্থবির কূটনৈতিক আলোচনায় বড় অগ্রগতির সূত্র দিয়েছেন পিস বোর্ডের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ। স্থবির হয়ে থাকা আলোচনা গতিশীল করতে হামাসের সম্পূর্ণ ‘নিরস্ত্রীকরণ’-এর পরিবর্তে তাদের অস্ত্র মজুত বা সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
একইসঙ্গে গাযার প্রশাসনিক কমিটিতে হামাসের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে নতুন এই প্রস্তাবে। সম্প্রতি ইজিপ্টের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশাদের সাথে দুই দফা বৈঠকে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন নিকোলাই ম্লাদেনভ। তার এই নতুন প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে হামাস।
মঙ্গলবার কায়রোতে ইজিপ্ট ও তুর্কিয়ের গোয়েন্দা প্রধান এবং কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সাথে বৈঠকে হামাস আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপরই ম্লাদেনভের এই প্রস্তাবটি আলোচনায় আসে। কায়রো থেকে হামাস প্রতিনিধিদলের বিবৃতিতে জানানো হয় যে, সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের চেয়ে অস্ত্র জমা বা আন্তর্জাতিক নজরদারিতে সংরক্ষণের এই প্রস্তাবটি বাস্তবসম্মত এবং তারা এতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।
তবে ইসরায়েল এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, গাযায় হামাসের যেকোনো ধরনের অস্ত্র বা প্রশাসনিক উপস্থিতি বজায় রাখার এই প্রস্তাব তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পরিপন্থী।
ইসরায়েলের আপত্তি সত্ত্বেও হামাসকে নিরস্ত্রিকরণের আগেই এনডিউরেন্সে আইএসএফ’র লজিস্টিক সরবরাহকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে হামাসসহ প্যালেস্টিনিয়ানরা। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এটি বোর্ডের বড় ধরনের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

