
ইরাকের আকাশে অ্যামেরিকান ট্যাঙ্কার বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৪ সেনা

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১৩ ২০২৬, ১৩:১৭
- 0
পশ্চিম ইরাকের আকাশে অ্যামেরিকার একটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে চার অ্যামেরিকান সেনা নিহত হয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি শত্রুপক্ষ বা বন্ধুসুলভ হামলার কারণে ঘটেনি।
পশ্চিম ইরাকের আকাশে অ্যামেরিকার একটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে চার অ্যামেরিকান সেনা নিহত হয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি শত্রুপক্ষ বা বন্ধুসুলভ হামলার কারণে ঘটেনি।
অ্যামেরিকান সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম ইরাকে অ্যামেরিকান বিমান বাহিনীর একটি বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে থাকা আরও দুই সদস্যের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অ্যামেরিকান বাহিনীর কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে পরিচালিত “অপারেশন এপিক ফিউরি” চলাকালে পশ্চিম ইরাকের আকাশে দুটি সামরিক বিমান এই ঘটনার মধ্যে পড়ে।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি বিমান বিধ্বস্ত হলেও অন্য বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ঘটনা শত্রুপক্ষের হামলা বা বন্ধুসুলভ হামলার ফল নয়।
তবে ইরান-সমর্থিত জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স অব ইরাক দাবি করেছে, তারাই বিমানটিকে ভূপাতিত করেছে এবং আরেকটি বিমানকে জরুরি অবতরণে বাধ্য করেছে। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তারা উপস্থাপন করেনি।
অন্যদিকে অ্যামেরিকায় নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত একটি বিমান নিরাপদে ইসরায়েলে অবতরণ করেছে।
কেসি- ১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কারকে মূলত আকাশে উড়ন্ত জ্বালানি স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি আকাশে উড়ন্ত যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ করে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় থাকার সুযোগ দেয়।
এই বিমানে সাধারণত তিন থেকে চারজন ক্রু সদস্য থাকে—পাইলট, কো-পাইলট এবং বুম অপারেটর, যিনি আকাশে অন্য বিমানে জ্বালানি সরবরাহের কাজ করেন।
এই দুর্ঘটনার ফলে ইরান যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
এর আগে পহেলা মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। এছাড়া সৌদি আরবে এক হামলায় আহত হয়ে আরেক সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়।
মার্কিন বিমান বাহিনীর বহরে থাকা কেসি-১৩৫ বিমানগুলো সবচেয়ে পুরোনো প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। সর্বশেষ ইউনিটটি সরবরাহ করা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে, যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে অ্যামেরিকার সামরিক উপস্থিতি ও ঝুঁকি বাড়ছে। সাম্প্রতিক এই বিমান দুর্ঘটনাও সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির নতুন মাত্রা যোগ করেছে।