Skip to main content

এশিয়ায় আঘাত হানা সংকটের প্রকোপ শীঘ্রই ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০ ২০২৬, ১৭:১১

এশিয়ায় আঘাত হানা সংকটের প্রকোপ শীঘ্রই ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে
  • 0

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ও গভীর অর্থনৈতিক ধাক্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, পরিবহন সংকট, খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি, কারখানা উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ও গভীর অর্থনৈতিক ধাক্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, পরিবহন সংকট, খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি, কারখানা উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য হয়ে বাণিজ্যিক ভাবে চলাচলে বড় বাধা তৈরি হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে এশিয়ার দেশগুলোতে, কারণ অঞ্চলটি জ্বালানির বড় অংশ আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হলে এবং অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে এশিয়ার কয়েকটি দেশে পণ্য সংকট, সামাজিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। বছরের শেষ নাগাদ লাখো মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের গ্লোবাল এনার্জি সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ফিলিপ কর্নেল বলেন, এই সংকটের প্রভাব অত্যন্ত দ্রুত এবং গভীর। মাত্রার দিক থেকে এটি খুবই বড় ধাক্কা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বাজার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে পড়ছে।

পরিবহন খাতে বড় ধাক্কা

যুদ্ধ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এশিয়ায় ট্রাক, জাহাজ ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন শুরু হয়। সবচেয়ে বড় সংকট দেখা যায় বিমান খাতে। মার্চ মাসে বিশ্বজুড়ে ৯২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর বড় অংশই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে।

মধ্যপ্রাচ্যের রুটে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সগুলো দ্রুত দুবাইসহ উপসাগরীয় গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত করে। জেট ফুয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় আরও অনেক রুট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হচ্ছে।

কোয়ান্টাস, এয়ার নিউজিল্যান্ড, লায়ন এয়ার, ভিয়েতজেট, এয়ারএশিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া ও ক্যাথে প্যাসিফিকসহ বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স সেবা কমিয়েছে। মালয়েশিয়ার বাতিক এয়ার দেউলিয়াত্ব এড়াতে চলতি মাসে ৩৫ শতাংশ ফ্লাইট কমিয়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক এভিয়েশন বিশ্লেষক শুকোর ইউসুফ জানিয়েছেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল ইতোমধ্যে এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। ছোট এয়ারলাইন্সগুলো প্রতি সপ্তাহে মিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে।

বাংলাদেশের গাজীপুর ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাক খাতেও উৎপাদন ও চালান সূচিতে বড় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। শিল্প মালিকরা বলছেন, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। সুতা ও কাঁচামালের দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এশিয়া-প্যাসিফিকে প্রায় ৮.৮ মিলিয়ন মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। আঞ্চলিক অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে ৯৭ বিলিয়ন থেকে ২৯৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত।

এশিয়ার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো পরিবহন, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান। ইরান যুদ্ধ সেই তিন খাতেই একযোগে আঘাত হেনেছে। দ্রুত শান্তিচুক্তি না হলে এশিয়ার বাজারে মূল্যস্ফীতি, পণ্য ঘাটতি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি সংকট আরও তীব্র হতে পারে।