জলবায়ু অভিবাসী সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের

টিবিএন ডেস্ক

এপ্রিল ১ ২০২৩, ১৬:২৮

জলবায়ু অভিবাসী সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের
  • 0

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চরম ঝুঁকির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাস্তুচ্যুতিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংলাপের অংশ হিসেবে আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেয়ার সময় বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে আছে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন এবং প্রশমন সংক্রান্ত কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করে প্রণীত অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা; জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল প্রতিষ্ঠা এবং মুজিব জলবায়ুসমৃদ্ধি পরিকল্পনা। 

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের কক্সবাজারে জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় আবাসন প্রকল্প ‘খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প’ হাতে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দায়ী দেশগুলোর বাধ্যবাধকতার বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসকে পরামর্শমূলক মতামতের জন্য অনুরোধ করে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদেরস্থানচ্যুতির মধ্যে যোগসূত্রের বিষয়টি স্বীকৃত হয়েছে।’ 

জলবায়ু পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট অন্য দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ জানান তিনি। বাংলাদেশেরপররাষ্ট্র সচিব জলবায়ু অর্থায়নসহ অন্য বৈশ্বিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এ প্রেক্ষাপটে তিনি সম্প্রতি চালু হওয়া বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০ বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র সচিব একই দিনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে লাখয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে শীর্ষ সৈন্য ও পুলিশ পাঠানো দেশের মর্যাদা লাভ করায় বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানান। 

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা সংক্রান্ত দপ্তরগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর অনুরোধ করেন। জবাবে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন। 

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল মুহিত উপস্থিত ছিলেন।


0 মন্তব্য

মন্তব্য করুন