দিল্লিতে বিক্ষোভের মধ্যেই মুক্তি ‘ককরোচ’ আন্দোলনের নেতাদের, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার
ছবি : রয়টার্স
- 0

ছবি : রয়টার্স

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১ ২০২৬, ১২:৩২ হালনাগাদ: অক্টোবর ১১ ২০২৬, ১২:৩২
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে তরুণদের বিক্ষোভের মধ্যেই মুক্তি পেয়েছেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও সংগঠনটির আরও দুই জ্যেষ্ঠ নেতা। শনিবার আটকের পর রোববার আদালতের নির্দেশে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। এদিকে, দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভের আশঙ্কায় দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রোববার (১১ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় যন্তর মন্তরে হাজারো মানুষকে নিয়ে সমাবেশ করার পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। তবে শনিবার দিল্লিতে পৌঁছানোর পর আন্দোলনের নেতাদের আটক করা হয়। পরে আদালত তাঁদের ‘জনশান্তি বজায় রাখার’ শর্তে মুক্তির নির্দেশ দেন বলে সংগঠনটির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
অভিজিৎ দিপকে মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপি লিখেছে, ‘তেলাপোকারা কখনো মরে না’ (Cockroaches never die)। এর মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ধ্রুব রাঠিও আটক হওয়ার পর মধ্যরাতের পর মুক্তি পান। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, বরং ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল।
শনিবারের বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন দুই হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। তাঁদের অধিকাংশকে শনিবার রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববারও শহরজুড়ে হাজারো পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলেন। তবে মেট্রো স্টেশনগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে এ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা যাচাই কার্যক্রমে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ ব্যক্তি অন্যত্র চলে গেছেন এবং প্রায় ৩ কোটি ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। বিজেপিও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন। জাতিসংঘের একটি সংস্থা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের বক্তব্যকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, রোববার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত শুনানিতে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হবে না বলে সরকারের দেওয়া আশ্বাস নথিভুক্ত করা হয়েছে। শনিবার বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় কয়েকজন সাংবাদিক এবং সুপ্রিম কোর্টের বাইরে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কিছু আইনজীবীকেও সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল।
ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তরুণদের এই আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ভোটার তালিকা সংশোধনে রাজনৈতিক কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি।
