প্রেমিকের কাছ থেকে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে পুলিশ ডেকেছিলেন এক নারী। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ওই নারীর কাছে জানতে পারেন, তিনি বৈধভাবে থাকছেন না অ্যামেরিকায়। বিষয়টি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-আইসকে জানায় পুলিশ। এরপর আইস তাকে নিয়ে রাখে লুইজিয়ানার একটি আটক কেন্দ্রে।
এনবিসি নিউজ শুক্রবার জানায়, নতিসিয়াস তেলেমুন্দোর কাছে এসব অভিযোগ করেন আটক নারীর মা।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে আলাদা একটি ঘটনায় হিউস্টনে থাকা এল স্যালভাদরের এক নারী ৯১১ নম্বরে কল করে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানান। ওই ঘটনায় অভিযোগকারী নারীর বিষয়ে পুলিশ আইসকে অবহিত করে বলে জানায় হিউস্টন ক্রনিকল।
ভুক্তভোগী দাবিদার নারীদের এমন ঘটনা নতুন নয় বলে নতিসিয়াস তেলেমুন্দোকে জানান অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা।
তাদের ভাষ্য, কিছু ক্ষেত্রে হেনস্তাকারীরা তাদের হাতে ভুক্তভোগীদের নিয়ন্ত্রণ কিংবা হেনস্তা করতে বেআইনি বসবাসকে কাজে লাগায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান ও সাম্প্রতিক অভিবাসী ধরপাকড় অভিযানের পর ভুক্তভোগীরা আরও বেশি শঙ্কিত।
এ বিষয়ে ফ্লোরিডার ট্যাম্পার খামার শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ ট্রি কালেকটিভের প্রতিষ্ঠাতা ইসারেত জেফার্স জানান, বিতাড়নের শিকার হওয়ার ভয়ে সঙ্গীদের হাতে হেনস্তা সইতে হচ্ছে তাদের।
তাহিরিহ জাস্টিস সেন্টারের সমাজসেবা কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ইসাবেল মার্তিনেজ জানান, নারীদের মধ্যে কয়েকটি বিষয় নিয়ে ভীতি কাজ করছে। তারা মনে করছেন, অভিযোগ করলে হেনস্তাকারীর কিছু তো হবেই না, উল্টো তাকে আটক কিংবা বিতাড়নের শিকার হতে হবে।
অপরাধের শিকার হওয়ার পরও অভিবাসী ভুক্তভোগীদের পুলিশকে জানানোর ভয় নতুন নয়।
তাহিরিহ জাস্টিস সেন্টারের মতে, ২০১৯ সাল থেকে তাদের সমাজকর্মীরা দেখে আসছেন যে, বিতাড়নের ভয়ে প্রায়ই জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার কথা জানাতে চান না নারীরা।
চলতি বছরের জুনে অ্যালায়েন্স ফর ইমিগ্র্যান্ট সারভাইভার্স পরিচালিত জাতীয় এক জরিপ অনুযায়ী, ৭৬ শতাংশ অভিবাসী সুরক্ষাকর্মী জানান, আইসের ভয়ে পুলিশকে কল করতে শঙ্কিত পারিবারিক সহিংসতার ভুক্তভোগীরা।
জরিপ অনুযায়ী, বিতাড়নের ভয়ে ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা ছেড়ে আসা অভিবাসীদের সঙ্গে কাজ করেছেন অর্ধেকের বেশি অভিবাসী সুরক্ষাকর্মী।