পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বুধবার বিদ্যুৎচালিত একটি ট্রাম লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৩ জন।
লিসবনের যোগাযোগ বিভাগ জানায়, আহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এবিসি নিউজ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত ২৩ জনের মধ্যে ৩ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, বিদ্যুৎচালিত ট্রামের নিরাপত্তা তার ছিঁড়ে যাওয়ায় ট্রামটি লাইনচ্যুত হয়ে থাকতে পারে।
স্ট্রিটকার অপারেটর ক্যারিস জানায়, প্রতিদিনের পরিদর্শনসহ সব ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ম মেনে চলা হয়েছিল।
এ ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন লিসবনের মেয়র কার্লোস মোয়েদাস।
এক বিবৃতিতে মেয়র বলেন, ‘আমি নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। লিসবন শোকাহত।’
পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও বৃহস্পতিবার জাতীয় শোকদিবস ঘোষণা করেছে। দুর্ঘটনা নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে দপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা নির্ধারণে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ক্যারিস।
উদ্ধার তৎপরতা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে বলে এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন পাবলিক মিনিস্ট্রির এক কর্মকর্তা।
দুর্ঘটনায় লাইনচ্যুত হওয়া ট্রাম কেবিনটিতে সর্বোচ্চ ৪০ জন যাত্রী ধারণ করার ক্ষমতা ছিল। খ্যাতনামা এই স্ট্রিটকারটির নাম ‘এলেভাদর দা গ্লোরিয়া’, যা আসলে একটি ফুনিকুলার—এটি খাড়া উঁচু ঢাল বেয়ে যাতায়াত করে।
দুর্ঘটনার পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শহরের অন্যান্য ট্রাম পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।