চলতি বছর স্টেইটে জন্মগত সিফিলিস সংশ্লিষ্ট তিন শিশুর মৃত্যুর খবরের পর নিউ ইয়র্ক স্টেইট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ-এনওয়াইডিওএইচ রোগটির ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করছে।
এনওয়াইডিওএইচের মতে, এ রোগে মৃত্যুগুলো হয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটির বাইরে। এসব মৃত্যু স্টেইটসহ দেশজুড়ে জন্মগত সিফিলিস সংক্রমণের ‘উদ্বেগজনক বৃদ্ধি’র অংশ।
সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-সিডিসির ডেটার বরাতে এবিসি নিউজ শুক্রবার জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশজুড়ে বেড়েছে জন্মগত সিফিলিসে আক্রান্তের সংখ্যা।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এ রোগ শনাক্তের সংখ্যা তিন হাজার আটশর বেশি। এটি ২০১৯ সালের সংক্রমণের চেয়ে ১০৬ শতাংশ বেশি। সংখ্যাটি ১৯৯৪ সালের পর একক যেকোনো বছরের সবচেয়ে বেশি।
কতটা বিপজ্জনক?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এবিসি নিউজকে জানান, জন্মগত সিফিলিস বড় পরিসরে প্রতিরোধযোগ্য, তবে চিকিৎসা না হলে এটি মারাত্মক, এমনকি প্রাণঘাতী হতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ড্যাভিসের চিল্ড্রেন’স হসপিটালের শিশু সংক্রামক রোগের সহকারী ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক ডা. এলিজাবেথ প্যাট্রিজ এবিসি নিউজকে জানান, জন্মগত সিফিলিস প্রতিরোধযোগ্য।
তিনি বলেন, জন্মগত সিফিলিস মহামারি রূপ নিয়েছে এবং নারীদের গর্ভধারণের সময় এর সংক্রমণ হচ্ছে।
জন্মগত সিফিলিস কী?
যৌনবাহিত একটি সাধারণ সংক্রমণ তথা এসটিআই হলো সিফিলিস। দেহের অভ্যন্তরে সংক্রমণ শুরু হলে তা ব্যথাহীন ক্ষত হিসেবে আবির্ভূত হয়।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, শুরুর দিকে ধরা পড়লে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই সিফিলিসের সংক্রমণ সারানো যায়, তবে এর চিকিৎসা করা না হলে কয়েক সপ্তাহ বা মাসে রোগের অবনতি হতে থাকে। তখন ফুসকুড়ির সঙ্গে জ্বর, পেশির ব্যথা, মাথাব্যথা ও অবসাদের মতো লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষণগুলো চলে যেতে পারে, তবে চিকিৎসা করা না হলে সিফিলিস ‘সুপ্ত পর্যায়’ বা লক্ষণহীন পর্যায়ে প্রবেশ করে। এ অবস্থায় রোগটি কয়েক বছর থেকে তৃতীয় পর্যায়ে যেতে পারে। ওই পর্যায়ে রোগটি দেহের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করতে পারে।
সিফিলিসের চিকিৎসা না করা কোনো অন্তঃসত্ত্বার মাধ্যমে শিশুর মধ্যে সিফিলিসের সংক্রমণ হয়। এটি গর্ভকালে কিংবা সন্তান জন্মদানের সময় উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এ রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব। রোগের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়া ঠেকাতে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
সিডিসি মনে করে, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানার পর চিকিৎসকের কাছে প্রথমবার যাওয়ার পরই সবার উচিত সিফিলিস পরীক্ষা করা। যেসব জায়গায় সিফিলিস সংক্রমণের হার বেশি, সেগুলোতে গর্ভকালে ও সন্তান জন্মদানের সময় অন্তঃসত্ত্বাদের বাড়তি পরীক্ষা দিতে পারেন চিকিৎসকরা।