Skip to main content

পদত্যাগের ঘোষণা কিয়ার স্টারমারের, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ব্রিটেন

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২২ ২০২৬, ১২:৫৪

পদত্যাগের ঘোষণা কিয়ার স্টারমারের, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ব্রিটেন
  • 0

সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বক্তব্যে স্টারমার জানান, দেশের স্বার্থ এবং দলের ঐক্যের কথা বিবেচনা করেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপ ও সংসদ সদস্যদের অনাস্থার মুখে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে ঐতিহাসিক বিজয় এনে দেওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলো।

সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বক্তব্যে স্টারমার জানান, দেশের স্বার্থ এবং দলের ঐক্যের কথা বিবেচনা করেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অভিবাসন নীতি নিয়ে সমালোচনা এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে স্টারমারের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। গত সপ্তাহে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের বড় ব্যবধানে জয় তার নেতৃত্বের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ইতোমধ্যে বার্নহামকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন জানাতে শুরু করেছেন। ফলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণায় ব্রিটেনজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এ সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন, আবার কেউ এটিকে ব্রিটিশ রাজনীতির ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্টারমারের ভূমিকার প্রশংসা করেছে জার্মানি। বিশেষ করে ইউক্রেন ইস্যুতে তার অবস্থানকে ‘নির্ভরযোগ্য ও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বার্লিন।

জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়াস বলেছেন, পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে ইউক্রেন সংকট মোকাবিলায় স্টারমার সবসময়ই জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বার্লিনে অনুষ্ঠিতব্য ‘ই-ফাইভ’ বৈঠক নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ৯ জুলাই থেকে নতুন নেতা নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলে গত এক দশকে সপ্তম নেতা পাবে ব্রিটেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

দুই বছরের শাসনামলে অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে অগ্রগতির দাবি করে বিদায় নিচ্ছেন কিয়ার স্টারমার। তবে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে থাকা ব্রিটিশ জনগণ এখন নতুন নেতৃত্বের কাছ থেকে কার্যকর সমাধানের প্রত্যাশা করছে।