প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত জ্বালানি তেল নিষেধাজ্ঞা ও গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে বৈচিত্র্যময় ও প্রাণচঞ্চল রাতের শহর হিসেবে পরিচিত কিউবার রাজধানী হাভানা এখন অন্ধকার নিস্তব্ধ নগরীতে পরিণত হয়েছে।
আলোর অভাবে শহরের সড়কগুলো ফাঁকা, থিয়েটারগুলো বন্ধ,পানশালা ও ক্যাফের দরজা-জানালায়ও পর্দা ঝুলতে দেখা যাচ্ছে।
শহরটির সবচেয়ে পরিচিত রাতের চিত্র পর্যটকদের সড়কে বিনোদন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা বিভিন্ন মানুষ কিন্তু অচালবস্থার ভিতর এসব মানুষের উপার্জনের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছ গেছে।
বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম এপি নিউজ জানায়, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত দেশটির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক চাপ, জ্বালানি সরবরাহে বাধা প্রদান এ অচলবস্থার সৃষ্টি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য রেশন কমে যাওয়া, পানি ও ওষুধের সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।
কিউবায় জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রধান দেশ ভেনেজুয়েলা। তবে গত জানুয়ারি মাসে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের সঙ্গেসঙ্গে কিউবাতে তেল সরবরাহ বন্ধ করে অ্যামেরিকা।
একইসঙ্গে কিউবায় তেল সরবরাহকারী বিভিন্ন কোম্পানি ও জাহাজের ওপর হুমকি, নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখে ট্রাম্প প্রশাসন।
অন্যদিকে, ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও কিউবার নেতা রাউল কাস্ত্রোর মধ্যে হওয়া চুক্তির পর পর্যটন খাতে বড় উত্থান দেখা যায় কিউবায়।
পর্যটন খাতকে কেন্দ্র করে হোটেল বাণিজ্য, নতুন গাড়ির আমদানি, বিনোদনসহ বিভিন্ন কর্মসংস্থান গড়ে ওঠে দেশটিতে।
তবে কিউবার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের পর্যটন নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি তেলের সংকটে বর্তমান চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন।
দেশটির সরকারিতথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পর্যটক এসেছে মাত্র ৭৭ হাজার ৬০০ জন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার।
জ্বালানিসংকটের কারণে এয়ার ফ্রান্স, এয়ার কানাডা ও আইবেরিয়ার মতো আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোও হাভানায় ফ্লাইট বন্ধ করেছে।