গোপনীয় তথ্য মামলায় দোষ স্বীকারে সম্মত হয়েছেন জন বল্টন
- 0


প্রকাশিত: জুন ৪ ২০২৬, ১৬:১১
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার জন বল্টন গোপন তথ্য সংরক্ষণের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় তিনি কারাদণ্ড এড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে হওয়া চুক্তির আওতায় বল্টন একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করবেন এবং ২.২৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন। সমঝোতা অনুযায়ী সম্ভাব্য কারাদণ্ডের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ বছর হলেও আদালত চাইলে তাঁকে কারাগারে না পাঠানোর সুযোগ দিতে পারে।
গত অক্টোবরে দায়ের করা মামলায় বল্টনের বিরুদ্ধে মোট ১৮টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল গোপন তথ্য নিজের কাছে রাখা এবং তা অন্যদের কাছে প্রকাশ করা। প্রসিকিউটরদের দাবি, তিনি সরকারে দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া ডায়েরি-ধরনের কিছু নোট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছিলেন। পরবর্তীতে নিজের স্মৃতিকথা লেখার প্রস্তুতির সময় এসব তথ্য ব্যবহার করা হয়।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বল্টন পরিবারের দুই সদস্যকে এমন কিছু নথি পাঠিয়েছিলেন, যেগুলোর শ্রেণিবিন্যাস ছিল “টপ সিক্রেট” পর্যন্ত। এসব তথ্য তিনি অ্যামেরিকান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক, গোয়েন্দা ব্রিফিং এবং বিদেশি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পেয়েছিলেন।
একটি নথি পাঠানোর পর বল্টন তাঁর আত্মীয়দের উদ্দেশে লিখেছিলেন, “এগুলোর কোনোটাই কিন্তু আমরা আলোচনা করব না।” জবাবে এক আত্মীয় লিখেছিলেন, “শশশ...।”
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, শেয়ার করা তথ্যের মধ্যে অ্যামেরিকার বৈদেশিক প্রতিপক্ষদের নিয়ে সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্যও ছিল। কিছু নথিতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের উৎস ও পদ্ধতির বিবরণ ছিল। একটি নথিতে একটি প্রতিপক্ষ দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা এবং অন্য একটি নথিতে অ্যামেরিকার গোপন অভিযানের পরিকল্পনা উল্লেখ ছিল বলে আদালতের নথিতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বল্টনের বিরুদ্ধে এই মামলা এমন এক সময়ে সামনে আসে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচক কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়েছিল। এর মধ্যে সাবেক এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কোমি এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেইমসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও ছিল আলোচনায়।
সমালোচকদের একটি অংশ অভিযোগ করেছে, জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা ব্যবহার করছে। তবে ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি
রিপাবলিকান পররাষ্ট্রনীতি মহলে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব জন বল্টন ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে নর্থ কোরিয়া, ইরান এবং ইউক্রেন নীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ দ্রুত প্রকাশ্যে আসে।
২০১৯ সালে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে তিনি বল্টনের পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন। এরপর বল্টন “The Room Where It Happened” নামে একটি বই প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি ট্রাম্পকে ভুল তথ্যপ্রাপ্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুর্বল নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।
ট্রাম্প প্রশাসন বইটির প্রকাশ ঠেকানোর চেষ্টা করলেও আদালতে সফল হয়নি।
মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্ট ফেডারেল আদালতে ২৬ জুন বল্টনের পুনরায় হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের শুনানি দোষ স্বীকার সংক্রান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে হয়ে থাকে।
