
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানির নিহতের দাবি ইসরায়েলের, শান্তি প্রস্তাব নাকচ খামেনির

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১৭ ২০২৬, ১৩:২২
- 0
মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইযরায়েল কাটয দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যা করেছে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিকে হত্যা করেছে। একই সময়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ মোজতবা খামেনেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অ্যামেরিকা ও ইসরায়েলকে আগে “নতমুখী” করার শর্ত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইযরায়েল কাটয দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু এর কার্যালয় জানায়, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের “নিষ্ক্রিয়” করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দুইটি মধ্যস্থতাকারী দেশ ইরানের কাছে উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি।
সূত্রের দাবি, খামেনেই বলেছেন—“অ্যামেরিকা ও ইসরায়েলকে পরাজয় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত শান্তির সময় আসেনি।”
যুদ্ধ পরিস্থিতি
অ্যামেরিকা–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবারও উভয় পক্ষের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান রাতভর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থানেও আঘাত হেনেছে।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রাফায়েল অ্যাডভান্স ডিফেন্স সিস্টেম এর স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
উপসাগরীয় উত্তেজনা
যুদ্ধের প্রভাব এখন উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে ২ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ফুজাইরাহ বন্দরে একাধিক হামলার পর তেল রপ্তানি কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে আবুধাবিতে ড্রোন হামলায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী এখনো কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদের হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সামরিক সহায়তার আহ্বান জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে অনেক দেশ।
ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, “কেউই তাদের মানুষকে হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে প্রস্তুত নয়। তাই এই সংকট সমাধানে কূটনৈতিক পথই খুঁজে বের করতে হবে।”