৮,৩৯,৫০৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা করেছে জামায়াত
- 0


প্রকাশিত: জুন ৯ ২০২৬, ১৩:২৯
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প বা ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ দিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত এই বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের জনপ্রশাসন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ, এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মগবাজার আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের পক্ষ থেকে 'ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট উপস্থাপন করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন বাজেট উপস্থাপন করেন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই বাজেটের বরাদ্দ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোট বাজেটের ২৪.০৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে জনপ্রশাসন খাতে। টাকার অঙ্কে যা ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা।
এছাড়া শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২৫,৫৭৫ কোটি টাকা (১৪.৯৬%) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখতে বাধ্য হয়েছে দলটি। সুদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট প্রস্তাবিত বাজেটের ১৫.১৯ শতাংশ। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫,৩৪০ কোটি টাকা (৭.৭৮%) বরাদ্দের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য খাতের মধ্যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩,৪৬২ কোটি টাকা (৫.১৮%), অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪,৪৫৭ কোটি টাকা (৪.১০%), এবং দেশের শিল্প ও উৎপাদন সচল রাখতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪,৯৫০ কোটি টাকা (২.৯৭%) বরাদ্দ ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বাজেট কোনো দলের জন্য দিচ্ছি না, এই বাজেট ১৮ বা ২০ কোটি মানুষের। আমরা যে প্রস্তাবনা জনগণের সামনে পেশ করবো এটার শর্ত আছে। সততা, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা থাকলে এটা অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আর একাউন্টটিবিলিটি না থাকলে যে বাজেট সরকার দেবে সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
