ইসরায়েলের নির্বাচন
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন- জানতে সময় লাগতে পারে কয়েক সপ্তাহ
- 0


প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭ ২০২৬, ১৩:৪০
ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা জানতে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল গাদি আইজেনকোট—কেউই সহজে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ দর-কষাকষির পরও সমাধান না এলে কয়েক মাসের মধ্যে আবারও নির্বাচন হতে পারে।
ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না; তাঁরা ভোট দেন রাজনৈতিক দলকে। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ আসনের সমর্থন। কিন্তু নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারবে—এমন পূর্বাভাস নেই।
ভোটের পর কীভাবে নির্ধারিত হবে প্রধানমন্ত্রী?
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কথা। এরপর ইসরায়েলের তিনটি প্রধান টেলিভিশন সম্প্রচারমাধ্যম বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করবে। এসব জরিপ থেকে কোন দল কতটি আসন পেতে পারে, তার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। তবে বুথফেরত জরিপ চূড়ান্ত ফলাফল নয়; সরকারি ফল প্রকাশের পর আসনসংখ্যার হিসাব বদলে যেতে পারে।
ভোটের ফল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না দিলে শুরু হবে সরকার গঠনের আলোচনা। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। এরপর যাঁর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাঁকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে—সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহে—তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে অন্য কোনো নেতাকেও সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
ছোট দলগুলোর হাতে বড় প্রভাব
ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ছোট দলগুলো প্রায়ই সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। বড় দলগুলোর কোনো শিবির ৬১ আসনের সমর্থন থেকে কয়েকটি আসন দূরে থাকলে ছোট দলগুলোর সমর্থনই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবধান পূরণ করতে পারে। এ কারণে মন্ত্রিসভার পদ, সরকারি বাজেট বরাদ্দ কিংবা নির্দিষ্ট নীতিগত প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ছোট দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করে বড় দলগুলো।
এবারের নির্বাচনে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—দুজনই এখন পর্যন্ত এসব দলের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে তারা সরাসরি জোটে যোগ না দিয়েও বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে। এমনকি নেসেটে নতুন সরকার অনুমোদনের ভোটে বিরত থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
সমাধান না হলে আবারও নির্বাচন
দীর্ঘ আলোচনা ও দর-কষাকষির পরও কোনো পক্ষ সরকার গঠনের মতো সমর্থন না পেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে। সরকারি পরিষেবা সচল থাকলেও বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা সীমিত থাকবে।
তবে পুনর্নির্বাচন হলেও রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ২০২২ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগে সাড়ে তিন বছরে পাঁচবার নির্বাচন হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা আবারও সামনে আসছে।
এবারের নির্বাচনের ফল তাই শুধু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রশ্ন নয়; বরং কোন দল কতটি আসন পাবে, ছোট দলগুলো কাকে সমর্থন দেবে এবং ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা শেষ পর্যন্ত কে নিশ্চিত করতে পারবেন—তার ওপরই নির্ভর করবে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ।
