জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গত মঙ্গলবার উচ্চ পর্যায়ের বিতর্কের প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন। বিশ্ব নেতাদের বেশিরভাগের অভিযোগের তীর ছিল ইসরায়েলের দিকে।
তবে বিভিন্ন দেশের নেতাদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে, জাতিসংঘকে মিথ্যার কারখানা বলে অভিহিত করেছে ইসরায়েল। একইসঙ্গে অধিবেশনে অংশ নেওয়া নেতাদের তোতা পাখির সঙ্গে তুলনা করে ব্যাঙ্গাত্মক ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলের প্রবাসী ও ইহুদি বিদ্বেষ দমন বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের অধীনস্ত জাতীয় জনকূটনীতি অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ভিডিওটি এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল।
ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন দেশের প্রধানদের প্রতিনিধিত্ব করা একটি তোতাপাখি অধিবেশন কক্ষে অনবরত ‘ইসরায়েল দোষী ’-বার্তাটি পুনরাবৃত্তি করছে। পরে ‘মিথ্যা বারবার বললেই, তা সত্য হয়ে যায় না’-এমন বার্তা দিয়ে ভিডিওটি শেষ হয়।
প্রকাশের পর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির ব্যাখ্য দিয়ে প্রবাসী ও ইহুদি বিদ্বেষ দমন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিচাই চিকলি বলেন, ‘জাতিসংঘের সভাকক্ষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অপবাদের প্রতিধ্বনি কক্ষে পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মুখে মুখে, যতক্ষণ না পর্যন্ত এটি সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা না যাচ্ছে। নতুন ভিডিওটি মিথ্যা পুনরাবৃত্তির এই সংস্কৃতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।’
চিকলি আরও জানান, ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় থেকে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সময় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের মিথ্যা ও পক্ষপাতমূলক প্রকাশনা, ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার যুক্ত করা হয়েছে।‘
এদিকে,জাতিসংঘে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের গণহত্যার মানসিকতা বলে মন্তব্য করেছেন। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তার কর্মজীবনে গাজার মতো এত বড় ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হতে কোথাও দেখেননি।
জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বিন হুসাইন ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আহ্বান জানান। ফ্রান্স, ব্রিটেন, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ দ্রুত হামলা বন্ধ ও গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানায়।