অধিকৃত পশ্চিম তীরেও গাজা উপত্যকার মতো সহিংস অভিযান চালাতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। একইসঙ্গে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকেও বিলুপ্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, রোববার প্রকাশিত ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ যুদ্ধের আহ্বান জানান তিনি।
ইয়েনেটকে স্মোট্রিচ বলেন, ‘জুডিয়া ও সামারিয়ায়’ (পশ্চিম তীরের জন্য ব্যবহৃত বাইবেলীয় নাম) ইসরায়েলের যুদ্ধে যাওয়া উচিত। সেখানে গাজায় যা করা হয়েছে, তা-ই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় যেমন হামাসকে ধ্বংস করা হয়েছে, তেমনি জুডিয়া ও সামারিয়ায় কোনো সন্ত্রাসী অবকাঠামো থাকা উচিত নয়। কোনো সন্ত্রাসী, অস্ত্র বা সুড়ঙ্গ থাকবে না।’
পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার ১ হাজার ৩৩০টির বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ছয়টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলায় বসতিস্থাপনকারীদের গুলি চালানো, বাড়িঘর ঘেরাও এবং অন্যান্য সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব হামলার সময় অনেক বসতিস্থাপনকারী ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সরবরাহ করা অস্ত্র ও সামরিক পোশাক ব্যবহার করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনাদের তাদের সুরক্ষা দিতেও দেখা যায় বলে অধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে।
স্মোট্রিচের বক্তব্যের পর ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এর নিন্দা জানায়। তারা বলেছে, এসব বক্তব্য ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করা, বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি দখল এবং পশ্চিম তীরকে জোরপূর্বক ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফিলিস্তিনি মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ইসরায়েলি সরকারের এ ধরনের বক্তব্য ও নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব সুক্কোট উপলক্ষে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দখলকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক বিধিনিষেধ জারি করেছে। ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর আরোপ করা এসব বিধিনিষেধ ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকার কথা।