মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা?
হরমুজ প্রণালী। ছবি: রয়টার্স
- 0

হরমুজ প্রণালী। ছবি: রয়টার্স

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪ ২০২৬, ১২:৪৩ হালনাগাদ: নভেম্বর ৪ ২০২৬, ১২:৪৩
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ৪ নভেম্বর থেকে ইরানে আবারও হামলা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে। অন্যদিকে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ। পরবর্তী সময়ে মঙ্গলবার (৩নভেম্বর) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের কাছাকাছি ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধ বিমানের মহড়া, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের তৎপরতা এবং পারস্য উপসাগরে আমেরিকার অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও মেরিন সেনা মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ৪ নভেম্বরকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর কথা জানালেও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকার কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশকে সম্ভাব্য হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তবে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের সহায়তায় ইরানের হামলার আওতায় থাকা দূরত্ব পর্যন্ত উড়ে যায়। একই দিন আমেরিকার ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের ২১ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে হামলার পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প তাতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ট্রাম্প সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, খুব শিগগিরই কোনো ঘটনা ঘটতে পারে এবং অধিকাংশ মানুষমনে করছেন, সেটি নির্বাচনের পরঘটবে।
একইদিনে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের পর ইরানে স্বল্পসময়ের কিন্তু তীব্র বিমান হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করেছেন আমেরিকাও ইসরায়েলের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং জ্বালানি অবকাঠামো।
এদিকে, নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও ইন্টারনেট কেবলের ওপর সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সামুদ্রিক অঞ্চলে ১২২টি নিশ্চিত হামলা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্তঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নাবিকদের প্রাণহানি ঘটেছে এবং তেল ওগ্যাস পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এছাড়া ইরান-সমর্থিত হুথিদেরতৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গত জুলাই থেকেসৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোসহবিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত জুনে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে আমেরিকার কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনার কথা জানা যায়নি।
সব মিলিয়ে, আমেরিকার সামরিক প্রস্তুতি, ইসরায়েলের অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড়ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য এই সংঘাতের প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নয়, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।
সূত্র: আরব নিউজ, এপি, নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
