মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কৌশল পরিবর্তন করছে ইরান। দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশের জলসীমায় জাহাজ চলাচলে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
রয়টার্স এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। মেরিটাইম সিকিউরিটি ডাটা এবং ইউকে মেরিটাইম ট্রেড এর তথ্য অনুযায়ী, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ট্যাঙ্কার সহ বাণিজ্যিক জাহাজকে কেন্দ্র করে অন্তত পাঁচটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার মধ্যে ড্রোন অ্যাটাকও রয়েছে।
ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে জাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় নতুন কৌশল ব্যবহার শুরু করেছে তেহরান। তাদের দাবি, এই কৌশলের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়তি রাখা এবং আসন্ন আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।
তবে নির্বাচনের ওপর প্রভাব বিস্তার ও তেলের দাম ক্রমবর্ধমান রাখার বিষয়টি ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এ উদ্দেশ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
এক ওয়াশিংটনের এক সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ছোট নৌযানে থাকা নিরস্ত্র পর্যবেক্ষকদের ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের রাডার সিস্টেমের বড় অংশ আমেরিকার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি লক্ষ্য শনাক্তের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। গত সপ্তাহে একটি ঐতিহ্যবাহী বিশেষ নৌযানে থাকা সন্দেহভাজন পর্যবেক্ষকদের শনাক্ত করার পর আমেরিকান বাহিনী নৌযানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বলে তিনি দাবি করেন।
ওই কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটির বিবরণ আমেরিকান সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, শিপিং কস্ট এবং ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের অভিযান স্ট্রেইট অব হরমুজ ছাড়িয়ে গালফ অব ওমান এবং আশপাশের অন্যান্য জলসীমায় বিস্তৃত হতে পারে। কাতার ও ইউনাইটেড আরম আমিরাতের কাছাকাছি জলসীমায়ও বাণিজ্যিক জাহাজকে কেন্দ্র করে ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, আমেরিকা ইরানের ওপর নাভাল ব্লকেড ও ইকোনমিক নিষেধাজ্ঞাসহ চাপ অব্যাহত রেখেছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।