আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছেন বিনিয়োগকারীরা। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ, সরকারি ব্যয়, বাজেট ঘাটতি এবং আর্থিক বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে জয় পেতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। তবে সেনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও বিভিন্ন শিল্প খাতের ওপর সরকারি নজরদারির ধরন বদলে যেতে পারে।
২০২৫ সালে ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউজে ফেরার পর কংগ্রেসের উভয় কক্ষ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ সময়ে এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ এবং কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী আয়ের কারণে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সময়ে ট্রেজারি বন্ডের মুনাফাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে এআই কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি ও তদন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণ, এআই মডেলের নিরাপত্তা মান এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিয়ে নতুন উদ্যোগ আসতে পারে। এতে এআই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ।
রয়টার্স/ইপসোসের জনমত জরিপ অনুযায়ী, আমেরিকানদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ডেটা সেন্টার নির্মাণের বর্তমান গতিকে সমর্থন করেন।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা হাউজের নিয়ন্ত্রণ নিলেও সেনেট রিপাবলিকানদের হাতে থাকলে কংগ্রেসে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ঋণসীমা নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি আমেরিকার ঋণমানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং ডলারের মূল্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নেড ডেভিস রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩০ সালের পর আটটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল হাউজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচবার নির্বাচনের পর বছরের বাকি সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে। ওই আটটি নির্বাচনের পর সূচকের মধ্যম বৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। সব মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একই সময়ের গড় মধ্যম বৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে। এতে এআই ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে রিপাবলিকানদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে কর সংস্কার এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এতে ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে ডলারকে সহায়তা করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ঋণ ও নীতিগত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
তবে নির্বাচনে যে দলই জয়ী হোক, আমেরিকার ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি ও সুদ পরিশোধের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ সহজে কাটবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স