আমেরিকায় সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে। পেট্রলসহ ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এতে আগামী ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার বাড়াতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস আরও জোরালো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আমেরিকার কমার্স ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের (বিইএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেনডিচারস (পিসিই) প্রাইস ইনডেক্স আগের মাসের তুলনায় ০.৫ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এ সূচক বেড়েছিল ০.৩ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের সঙ্গে সেপ্টেম্বরের এই বৃদ্ধির হার মিলে গেছে।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে পিসিই মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগস্টে এ হার ছিল ৩.৪ শতাংশ।
মূল মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে
খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির দামের উপাদান বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর পিসিই প্রাইস ইনডেক্স সেপ্টেম্বরে আগের মাসের তুলনায় ০.৩ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টের এই বৃদ্ধির হারও সংশোধিত হিসাবে ০.৩ শতাংশ।
বার্ষিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে কোর পিসিই মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.১ শতাংশ হয়েছে। আগস্টে এ হার ছিল ৩ শতাংশ।
ফেড মূল্যস্ফীতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক হিসেবে পিসিই প্রাইস ইনডেক্স ব্যবহার করে। এতে এর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ।
বুধবার ফেড বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক বাজারে আগামী ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৪.৬ শতাংশ ধরে নেওয়া হচ্ছিল।
বেড়েছে ভোক্তা ব্যয়, তবে প্রকৃত ব্যয় অপরিবর্তিত
আমেরিকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোক্তা ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই খাতের পরিবর্তন অর্থনীতির সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিইএর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ভোক্তা ব্যয় আগের মাসের তুলনায় ০.৫ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এ বৃদ্ধির হার ছিল ০.৯ শতাংশ।
তবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর সেপ্টেম্বরে প্রকৃত ভোক্তা ব্যয় অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ, পণ্য ও সেবার পেছনে ভোক্তাদের মোট ব্যয় বাড়লেও দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাদ দিলে ব্যয়ের পরিমাণে কোনো প্রবৃদ্ধি হয়নি।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে ভোক্তা ব্যয় বার্ষিক হিসাবে ৩.৮ শতাংশ হারে বেড়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে প্রকৃত ব্যয় স্থির থাকায় বছরের শেষ প্রান্তিকে ভোক্তা চাহিদা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ
সরকারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)'র অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদনে অর্ন্তভুক্ত করা তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের এই প্রান্তিকে আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ফেডের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে। জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের বাড়তি দাম ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে ফেডকে সতর্ক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল ব্যাংক এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।
সূত্র: রয়টার্স, ২৯ অক্টোবর ২০২৬।