জ্বালানির দাম বাড়ায় সেপ্টেম্বরে আমেরিকায় মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টির জন্য ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত লেবার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) আগের মাসের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এই বৃদ্ধির হার ছিল ০.৪ শতাংশ। বার্ষিক হিসাবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৭ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৩.৪ শতাংশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে আমেরিকায় গ্যাসোলিনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, মাসিক হিসাবে গ্যাসোলিনের মূল্যসূচক বেড়েছে ৯.১ শতাংশ, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে অর্ধেকের বেশি অবদান রেখেছে। একই সময়ে জ্বালানির সামগ্রিক মূল্যসূচক বেড়েছে ৫.২ শতাংশ।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আমেরিকানদের উদ্বেগের মধ্যেই নতুন এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে কনজ্যুমার সেন্টিমেন্ট কমে যাওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্পের অ্যাপ্রুভাল রেটিং হ্রাসের তথ্য উঠে এসেছে। রয়টার্স ও ইপসসের এক জরিপে প্রায় ৭৮ শতাংশ আমেরিকান বলেছেন, আমদানি পণ্যে শুল্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে পণ্যমূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির গতি মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
খাদ্য ও জ্বালানির মতো ওঠানামাপ্রবণ খাত বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্স (কোর সিপিআই) সেপ্টেম্বরে মাসিক হিসাবে ০.৩ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টেও এই বৃদ্ধির হার একই ছিল। তবে বার্ষিক হিসাবে কোর সিপিআই বেড়ে ২.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল ২.৪ শতাংশ। আবাসন ব্যয়, ব্যবহৃত গাড়ি, বিমানভাড়া ও পোশাকের দাম বৃদ্ধিও মূল্যস্ফীতির চাপে ভূমিকা রেখেছে।
নতুন এই তথ্যের কারণে ফেডারেল রিজার্ভের মানিটারি পলিসি নিয়েও আলোচনা বেড়েছে। গত মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি বেঞ্চমার্ক ইন্টারেস্ট রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছিল। তিন বছরের মধ্যে সেটিই ছিল প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর ২৭–২৮ অক্টোবরের বৈঠকে আবার সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাজারে ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৫২ শতাংশ হয়েছে। তবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দুর্বল তথ্য এবং জুলাই ও আগস্টের প্রত্যাশার চেয়ে কম পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার (পিসিই) ইনফ্লেশনের কারণে সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে, সোশ্যাল সিকিউরিটি ও সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকামের সুবিধাভোগীদের জন্য ২০২৭ সালের কস্ট অব লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট (সিওএলএ) ৩.৬ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগী এবং যোগ্য অন্যান্য উপকারভোগীদের সুবিধার পরিমাণ এই সমন্বয়ের মাধ্যমে বাড়বে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং কোর ইনফ্লেশনের চাপ অব্যাহত থাকায় আমেরিকার অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।