ভারতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতাসীন যোগী আদিত্যনাথের সরকার।
সরকারি এক নির্দেশে জানানো হয়, সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা সরকারি চাকরিক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের পর নতুন এ নির্দেশনাটি প্রকাশ করে উত্তর প্রদেশের নিয়োগ ও কর্মী বিভাগ কর্তৃপক্ষ।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজ্যের সকল সরকারি দপ্তর, রাষ্ট্রীয় করপোরেশন, পরিষদ ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে আদেশটি কার্যককর হবে।
ভারতে গত অক্টোবর মাসে নির্বাচন কমিশনের একটি বিতর্কিত পদক্ষেপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্র-জনতা। পরবর্তীতে বিক্ষোভটি বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বড় আকার ধারণ করলে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদীর সরকার পতনের ডাক দেয়।
এ ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ সরকার কর্তৃক বিক্ষোভকারীদের সরকারি চাকরিতে বাধা প্রদানে নতুন নির্দেশনার নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। এ ধরনের নীতি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগের মানসিকতা ধারণ করে বলে মন্তব্য করেছে বিরোধী দল।
তবে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসনের ভাষ্য, নির্দেশনাটি ব্যক্তির রাজনৈতিক মতাদর্শ ও পরিচয়ের ভিত্তিতে ব্যবহার করা হবে না।
যেসব সংগঠন বা ব্যক্তি সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশে সহিংস কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন নির্দেশনাটি তাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
এফআইআর দায়ের কিংবা তদন্ত চলাকালীন অবস্থায় কেউ চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া যারা মামলায় নিষ্পত্তি পেয়েছেন ও সহিংস কর্মকাণ্ডটি কিশোর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলে তাদের জন্যও এ নির্দেশনা কার্যকর হবে না।