জেন জিদের বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, নিহত অন্তত ৪

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫ ২০২৫, ১০:৫৪

নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

  • 0

বিক্ষোভকারীরা নরেন্দ্র মোদির বিজেপি দলের আঞ্চলিক কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

রক্তাক্ত হিমালয়ের উঁচু শীতল মরুভূমি অঞ্চল লাদাখ। জেন-জি তরুণদের নেতৃত্বে সহিংস বিক্ষোভে টালমাটাল ভারত-চীন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অঞ্চলটি।

লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবিকে ঘিরে চলমান আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। লেহ শহরে ব্যাপক বিক্ষোভে অন্তত চারজন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা বিজেপি কার্যালয় এবং হিল কাউন্সিলের সদর দপ্তরে পাথর নিক্ষেপ করে। পরে তারা একটি নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি ও আরও কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিজেপির কার্যালয়ের আসবাবপত্র এবং নথিপত্রও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় অন্তত ৩০ জন পুলিশ ও সিআরপিএফ সদস্য আহত হন।

ভারতের কাছ থেকে বৃহত্তর সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং রাজ্যের দাবিতে, গত ছয় বছর ধরে স্থানীয় নাগরিক সংস্থাগুলোর নেতৃত্বে লাদাখের হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেছে এবং অনশন করেছে।

বুধবার সকালে সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত 'লাদাখ অ্যাপেক্স বডি'র নেতৃত্বে স্থানীয় লাদাখি কর্মীদের অনশন ১৫তম দিনে প্রবেশ করে।

দুই সপ্তাহ ধরে অনশন ধর্মঘটের পর আগের সন্ধ্যায় ৬২ এবং ৭১ বছর বয়সী দুই কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর ফলে আয়োজকরা 'শাটডাউনের' ডাক দেন। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা আলোচনা বিলম্বিত করার জন্য মোদি সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

যুব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো লেহ শহরের শহীদ স্মৃতি উদ্যানে বিক্ষোভস্থল থেকে স্থানীয় সরকারি ভবন ও একটি বিজেপি অফিসের দিকে স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যায়। এর এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে চার জন নিহত হয় এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ধারাবাহিক অনশন ধর্মঘটের নেতৃত্ব দেওয়া একজন শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার হতাশ তরুণদের একটি দল সেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে সরে এসেছে।

অনশন ধর্মঘটের শীর্ষ সংস্থার সমন্বয়কারী জিগমত পালজোর বলেছেন, 'এটি লাদাখের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন। তারা আমাদের তরুণদের -সাধারণ জনগণকে শহীদ করেছে।'

পালজোর আল জাজিরাকে বলেন, 'সরকারের পাঁচ বছর ধরে মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে জনগণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল।’

এক বিবৃতিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অশান্ত জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে ৩০ জনেরও বেশি সেনা সদস্য আহত হয়েছে। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশকে গুলি চালাতে হয়েছে, যার ফলে কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।