মধ্যবর্তী নির্বাচন
ডেমোক্র্যাটরা জিতলে ফ্রান্সের মতো আমেরিকায়ও আগুন জ্বলবে: ট্রাম্প
- 0


প্রকাশিত: অক্টোবর ২০ ২০২৬, ১২:২৩
ডেমোক্র্যাটরা আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হলে আমেরিকায়ও ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ক্যানসাসের পার্ক সিটিতে রিপাবলিকান সেনেটর রজার মার্শালের পক্ষে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি ট্রাম্প।
সমাবেশে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, দেশটিতে গির্জার চূড়া জ্বলতে এবং চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখলে মনে রাখতে হবে, উগ্র ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকার জন্যও এমন পরিস্থিতি তৈরি করবে। ডেমোক্র্যাটদের বিদ্রূপ করে ‘ডুমোক্র্যাটস’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে জনসেবা খাতের সংকট নিয়ে ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটে রূপ নেয়। ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে অভিবাসী ও মুসলিমদের লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্যও উঠে আসে।
ক্যানসাসে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচন
কানসাস ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজ্যটিতে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। গত ৯৪ বছরে ক্যানসাস থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সেনেটর নির্বাচিত হননি। কিন্তু এবার রিপাবলিকান সেনেটর রজার মার্শাল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন।
মেথডিস্ট চার্চের একজন যাজক হ্যামিলটন ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও তাঁর নেতৃত্বের ধরন নিয়ে সমালোচনা করছেন। সমাবেশে তাঁকে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, হ্যামিলটন চান মানুষ শ্বেতাঙ্গ হিসেবে জন্ম নেওয়ার জন্য অনুতপ্ত হোক।
মার্শালও সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে হ্যামিলটনকে আক্রমণ করেন। সমকামীদের অধিকার ও প্রাইড প্যারেডের প্রতি সমর্থনের কারণে তাঁকে ক্যানসাসের জন্য অতিরিক্ত উদারপন্থী বলে মন্তব্য করেন রিপাবলিকান সেনেটর।
জবাবে হ্যামিলটনের প্রচারশিবির জানায়, এসব বক্তব্য ক্যানসাসের মানুষের প্রকৃত উদ্বেগ আড়াল করতে পারবে না। তাদের ভাষ্য, জ্বালানি ও ডিজেলের বাড়তি দাম, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং ওয়াশিংটনের দুর্নীতি নিয়ে মানুষ চাপে রয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক উদ্বেগ
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে তাঁর প্রচার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসোসের এক জরিপে ট্রাম্পের কর্মদক্ষতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩১ শতাংশ আমেরিকান—যা তাঁর প্রেসিডেন্সির সর্বনিম্ন পর্যায়। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চায় রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের হাউয ও সেনেট—উভয় কক্ষেই নিট চারটি করে আসন বাড়াতে হবে।
ক্যানসাসের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাই শুধু একটি সেনেট আসন ধরে রাখার লড়াই নয়; এটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক অসন্তোষ মোকাবিলায় রিপাবলিকানদের সক্ষমতারও পরীক্ষা।
