হেলথ সেক্রেটারি রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র ভ্যাকসিন নীতিতে বড় ধরনের যে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাতে সাময়িক বাধা হয়ে দাড়িয়েছে ফেডারেল আদালত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার দেওয়া এক রায়ে শিশুদের জন্য নির্ধারিত নিয়মিত টিকা কমানোর মতো সিদ্ধান্তগুলো স্থগিত করা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতোমধ্যেই ভ্যাকসিন নিয়ে যে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা সহজে দূর হবে না।
মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ গবেষণা ও নীতি কেন্দ্রের পরিচালক মাইকেল ওস্টারহোম বলেন, “যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন এর প্রভাব নিয়েই আমাদের এগোতে হবে।”
এই রায় এসেছে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসসহ কয়েকটি সংগঠনের করা মামলার পর।
আদালত বলেছে, কেনেডি যখন ১৭ জন স্বাধীন ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞকে বরখাস্ত করেন, তখন পরবর্তি গঠিত উপদেষ্টা কমিটি আইনসম্মতভাবে তৈরি হয়নি।
ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ ব্রায়ান মারফি জানান, নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ১৫ সদস্যের অধিকাংশই এ দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত ছিলেন না।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকের প্রধান আইনজীবী রিচার্ড হিউজেস বলেন, ‘আদালতের এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর মধ্যে ভ্যাকসিন নীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট।‘
তার ভাষ্য,’বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি ধ্বংসের প্রবণতা থামাতেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।‘
গত এক বছরে কেনেডি একাধিক ভ্যাকসিন নীতিতে পরিবর্তন আনেন, যা প্রচলিত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে তার নিয়োগ দেওয়া প্যানেল নিয়মিত কোভিড টিকার সুপারিশ তুলে দিয়ে রোগীদের চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
ডিসেম্বরে একই প্যানেল নবজাতকদের জন্য দীর্ঘদিনের হেপাটাইটিস বি টিকার সুপারিশ বাতিল করে। অথচ এই টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ প্রায় ৯৯ শতাংশ কমে এসেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।