Skip to main content

ইরানের বিষয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং একমত, দাবি করেছেন ট্রাম্প

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৫ ২০২৬, ১৬:১০

ইরানের বিষয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং একমত, দাবি করেছেন ট্রাম্প
  • 0

তেহরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে, এ বিষয়ে চায়নার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মত হয়েছেন। চায়না সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান নিয়ে তার ধৈর্য দ্রুত শেষ হয়ে আসছে

তেহরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে, এ বিষয়ে চায়নার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মত হয়েছেন। চায়না সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নিয়ে তার ধৈর্য দ্রুত শেষ হয়ে আসছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

বেইজিংয়ে দুই দিনের বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে ট্রাম্প বলেন,
“তারা চাননা ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক, পাশাপাশি তারা চান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকুক।”

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে অ্যামেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপণ্য এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে।

পরে অ্যামেরিকা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। জবাবে তেহরান জানায়, ওয়াশিংটন অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না।

বেইজিং বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেছেন—হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে ইরানের টোল আরোপের যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে চায়না। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, শি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে বেইজিং ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাবে না।

তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি শি জিনপিং। চায়নার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুধু এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই সংঘাত কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং এর অব্যাহত থাকারও কোনো কারণ নেই।”

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, অ্যামেরিকার পক্ষ থেকে নতুন করে আলোচনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরান এখনো ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করে না।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। কিন্তু তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে বা গোপন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার হস্তান্তর করতেও রাজি নয়—যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
“তিনি আর বেশি ধৈর্য ধরবেন না। ইরানকে অবশ্যই একটি চুক্তি করতে হবে।”

চলমান অচলাবস্থার প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে। তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হতে পারে।

যদিও হামলার কারণে প্রায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, তবুও বুধবার একটি বিশাল চাইনিজ তেলবাহী জাহাজ এবং জাপান-সংশ্লিষ্ট আরেকটি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে।

ইউনাইটেড আরব আমিরাতও পরিস্থিতির ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন বিকল্প পাইপলাইন দ্রুত নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির দিকে অগ্রসর হওয়া একটি জাহাজ ডুবে যায় এবং আরেকটি জাহাজ ইরানের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়।

এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও অ্যামেরিকার আলোচনা এখনো স্থগিত রয়েছে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষই একে অপরের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়।

অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটন বলছে, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, যদিও হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে।