ইরানকে তাদের অবশিষ্ট সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের তথ্য ঘোষণা করতে এবং তা যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকারের দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সির ৩৫ সদস্যের বোর্ড।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সংবাদমাধ্যম এসোসিয়েট প্রেস জানায়, ৩৫ সদস্যের বোর্ডের মধ্যে ২১টি দেশ ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে রাশিয়া, চীন ও নাইজার প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে এবং ১০টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেইন ও অ্যামেরিকা। পশ্চিমা এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ইরানকে তার পারমাণবিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা।
প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যামেরিকা ইরানে বিমান হামলা চালায় এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। পরিস্থিতি শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, গত বছর ইসরায়েল ও অ্যামেরিকার যৌথ হামলায় ইরানের কিছু পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে তেহরান আইএইএ পরিদর্শকদের সেসব স্থানে প্রবেশ করতে দেয়নি। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি-এনপিটি অনুযায়ী ইরানের এ বিষয়ে সহযোগিতা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আইএইএ এখনো ওই হামলার পর ইরানের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি মজুদের অবস্থান যাচাই করতে পারেনি। সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, এ পরিমাণ ইউরেনিয়াম দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে প্রায় ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব, যদিও ইরান এমন পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে।