উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রোববার রাতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি বৈঠক করেছে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল-জিসিসি।
বৈঠক শেষে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে জানান, নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিকল্পও খোলা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে জর্ডান কর্তৃপক্ষ জানায়, গত দুই দিনে তারা আকাশপথে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।
ইরানের পাল্টা হামলা শুরুর পর থেকে দেশটিতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
উপসাগরের বিভিন্ন দেশে বেসামরিক অবকাঠামোও হামলার শিকার হয়েছে।
বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর থেকে শুরু করে আবাসিক ভবন ও হোটেলসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মিলেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্না জ্যাকবস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এই সংঘাতের সামনের সারিতে অবস্থান করছে। ইরান যদি হামলা অব্যাহত রাখে এবং আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করে, তাহলে এসব দেশের পক্ষে নীরব থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাহরাইনের রাজধানী মানামার বিমানবন্দরে রোববার ভোরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এতে সামান্য ক্ষতি হয়েছে।
মানামায় অবস্থিত আ্যমেরিকান দূতাবাস নাগরিকদের শহরের হোটেলগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ক্রাউন প্লাজা হোটেলে হামলার পর সেগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে হামলার ঘটনায় আগুন ধরে যায় একাধিক স্থাপনায়।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।