চারটি মহাদেশজুড়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। আক্রান্ত যাত্রীদের শনাক্তের পাশাপাশি তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস সংক্রমিত ডাচ প্রমোদতরী থেকে পর্যবেক্ষণের আগে জাহাজ থেকে নেমে যাওয়া দুই ডজনেরও বেশি যাত্রীদের শনাক্ত করতে খুঁজছে চার মহাদেশ।
যাত্রী শনাক্ত করতে তৎপরতা চালানো মহাদেশগুলো হলো- এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ অ্যামেরিকা ও ইউরোপ।
মহাদেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজ থেকে অন্যত্র ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে আগেই নেমে যাওয়া যাত্রীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
এমভি হন্ডিউস নামের ওই প্রমোদতরীর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২ মে প্রথম একজন যাত্রীর শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়, যিনি পূর্বেই মারা যান। ভাইরাস শনাক্তের আগেই ২৪ এপ্রিল ১২টি দেশের চব্বিশজনেরও বেশি যাত্রী জাহাজ থেকে নেমে যান।
যার ফলে ওই যাত্রীরা ভাইরাস সংক্রমিত কারও সংস্পর্শে ছিল কিনা অথবা তাদের কেউ আক্রান্ত কিনা-তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ইঁদুর জাতীয় প্রাণী থেকে ছড়ানো এ ভাইরাস এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির ভিতর সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি আছে।
এদিকে ২৫ এপ্রিল জোহানেসবার্গ থেকে আমস্টারডামগামী কেএলএমের একটি ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনকারী এক বিমানকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। যদিও পরীক্ষায় তার শরীরে ভাইরাস পাওয়া যায়নি, তবু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে আমস্টারডামের একটি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই একই ফ্লাইটে থাকা এক ডাচ নারী, যার স্বামী জাহাজে মারা গিয়েছিলেন, অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে জোহানেসবার্গে বিমান থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ডাচ জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ওই নারীর সংস্পর্শে আসা যাত্রীদের শনাক্ত করে পর্যবেক্ষণ চলছে।
ব্রিটেনের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, আরও একজন ব্রিটিশ নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি দক্ষিণ আটলান্টিকের প্রত্যন্ত দ্বীপ ট্রিস্টান দা কুনহায় অবস্থান করছেন, যেখানে এপ্রিল মাসে জাহাজটি যাত্রাবিরতি করেছিল।
এখন পর্যন্ত জাহাজে থাকা দুই ব্রিটিশ নাগরিকের শরীরে ভাইরাস নিশ্চিত হয়েছে। তাদের একজন নেদারল্যান্ডসে এবং অন্যজন দক্ষিণ আফ্রিকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও যাত্রীদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছে। বিশেষ করে ২৫ এপ্রিল সেন্ট হেলেনা দ্বীপ থেকে জোহানেসবার্গগামী ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।