রাশিয়া, ইউক্রেন ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা শুরুর আগে ইউক্রেনজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবারের (৭ নভেম্বর) চালানো এসব হামলায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার ইউনাইটেড আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় এটি হবে চতুর্থ দফার আলোচনা। এর আগে সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ৩৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে মাত্র চারটি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া কিয়েভসহ ১৩টি অঞ্চলে ১৭২টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
হামলায় কিয়েভের আবাসিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। হামলার কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ নর্দার্ন ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সেতুটি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো।
এদিকে, দক্ষিণ ইউক্রেনের কোমিশুভাখা গ্রামে রুশ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সোমবার একটি সাবেক স্কুল ও পাশের আশ্রয়কেন্দ্রে রাশিয়ার একাধিক গাইডেড বোমা হামলার পর সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ায়। দেশটির বেলগোরোদ অঞ্চলের গ্রাইভোরন শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আগের রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশটির ১০টি অঞ্চলে ৪১১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে আবুধাবিতে শান্তি আলোচনা শুরুর আগে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।