সুমুদ ফ্লোটিলা ছাড়াও ইসরায়েলি হামলার শিকার গাজামুখী যেসব নৌবহর

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২ ২০২৫, ২০:৫৮ হালনাগাদ: মার্চ ৭ ২০২৬, ২৩:৩৯

গাজা অভিমুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র একটি নৌযান। ছবি: রয়টার্স

গাজা অভিমুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র একটি নৌযান। ছবি: রয়টার্স

  • 0

সর্বশেষ ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের নৌবহরটি বেশ কয়েকবার আক্রমণের শিকার হওয়ার পর এখন ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে আছে।

ইসরায়েল আরোপিত অবরোধে ২০০৭ সাল থেকে সারা দুনিয়া থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন গাজা। সীমান্তবর্তী দেশ মিসর হয়ে উপত্যকায় ত্রাণ পৌঁছালেও যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে এ সহায়তা নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছাতে পারে না ইসরায়েলি বাধার কারণে।

দক্ষিণ ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর এ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ইসরায়েলি বাধায় দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় গাজাজুড়ে।

এমন বাস্তবতায় মানবিক সহায়তাবাহী ৪৪টি নৌযানের বহর নিয়ে ‘উন্মুক্ত কারাগার’ হিসেবে পরিচিত উপত্যকার উদ্দেশে রওনা হন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৫০০ যাত্রী। তাদের এ বহরের নাম ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’।

সব ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার নৌবহরটি পৌঁছে যেত গাজা উপকূলে, কিন্তু ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আক্রমণে বুধবার থেকে একে একে জব্দ হয় নৌবহরের সবগুলো নৌযান।

আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলের এমন হস্তক্ষেপের ঘটনা নতুন নয়।

সমুদ্রপথে ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে ২০১০ সাল থেকে বিশ্বের নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’-এর উদ্যোগে গাজা অভিমুখে যাত্রা করে বিভিন্ন নৌবহর। আক্রমণের মুখে শেষ পর্যন্ত কোনোটিই গাজা উপকূলে গিয়ে পৌঁছাতে পারেনি।

বিভিন্ন সময় আক্রমণের শিকার হওয়া নৌযানের তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

২০১০: গাজা অভিমুখে ৬০০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করেছিল নৌযান ‘মাভি মারমারা’। জাহাজটির ৩১ মে পৌঁছানোর কথা ছিল সুনির্দিষ্ট উপকূলে।

এর আগেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আক্রমণে নিহত হন জাহাজে থাকা ১০ তুর্কি স্বেচ্ছাসেবক। এখন পর্যন্ত গাজা অভিমুখী জাহাজে সবচেয়ে বড় ইসরায়েলি হামলা ছিল সেটি।

২০১১: বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৩০০ জন যাত্রী ও ১০টি জাহাজ নিয়ে গাজায় আবারও যাত্রার পরিকল্পনা করে ফ্রিডম ফ্লোটিলা-২। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি হুমকি ও কূটনৈতিক চাপের মুখে বেশির ভাগ জাহাজ যাত্রা চলমান রাখতে পারেনি।

‘ডিগনিটি আল করামা’ নামে একটি জাহাজ গাজার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তার পরপরই ইসরায়েলি সেনারা জব্দ করে জাহাজটিকে। জাহাজে থাকা স্বেচ্ছাসেবীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিতাড়ন করা হয়।

২০১৫: ওই বছর আবারও ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে গাজা অভিমুখে যাত্রা করে ফ্রিডম ফ্লোটিলা-৩। এ যাত্রায় নেতৃত্ব দেয় সুইডিশ পতাকা বহনকারী জাহাজ ‘মারিয়ান অব গথেনবার্গ।’

২৯ জুন মারিয়ান যখন গাজা উপকূল থেকে মাত্র ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে, তখন আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজটি জব্দ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। জাহাজে থাকা লোকজনকে ছয় দিন আটক রাখার পর মুক্ত করা হয়।

২০১৮: ফ্রিডম ফ্লোটিলার গাজামুখী অভিযানে মূল দুটি জাহাজ ছিল ‘আল আওদা’ এবং ‘ফ্রিডম।’ ২৯ জুলাই ও ৩ আগস্ট পর্যায়ক্রমে দুটি জাহাজই জব্দ করে ইসরায়েলি বাহিনী।

জাহাজে থাকা যাত্রীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটক রেখে নিজ দেশে পাঠানো হয়। সে সময় যাত্রীরা কারাগারে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হন।

২০২৫: চলতি বছরের ২ মে গাজা অভিমুখী ‘কনসায়েন্স’ জাহাজটি ইসরায়েলি সশস্ত্র হামলার শিকার হয়। এতে করে জাহাজের বিভিন্ন অংশে অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কয়েকজন দগ্ধ ও আহত হন।

গত ২ জুন ‘মেডলিন’ নামের আরেকটি জাহাজ মিসর অঞ্চলে অবস্থান করার সময় আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী।

সর্বশেষ ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের নৌবহরটি বেশ কয়েকবার আক্রমণের শিকার হওয়ার পর এখন ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে আছে।