জাতিসংঘের অধিবেশনে ট্রাম্প
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চুক্তি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আশাবাদ
- 0


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২ ২০২৬, ১৫:৩৭
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই এ ধরনের একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেশটির ওপর পূর্ণ অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, একসময় ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করলেও এখন আর সেই অবস্থানে নেই। তিনি বলেন, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলা বন্ধ, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ এবং সন্ত্রাসে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত দেশটির সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করতে সব দেশকে অ্যামেরিকার সঙ্গে যোগ দিতে হবে।
ভাষণে ইরান ইস্যুতে যুদ্ধ নাকি শান্তি—এমন একটি সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হতে পারে, যা দেশটিকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেবে। অন্যদিকে তিনি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও সামনে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদল বেরিয়ে যায়।
ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে ইরান ও অ্যামেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন। অ্যামেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ একই সময়ে জানিয়েছেন, চাপের কাছে তেহরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
ইরান প্রসঙ্গের পর ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে অ্যামেরিকা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটবে। তাঁর দাবি, শান্তি নিয়ে সমঝোতাটি অনেকের ধারণার চেয়েও দ্রুত হতে পারে। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।
ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও আলাদা ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নামটি প্রযুক্তিটিকে যেন ‘নকল’ বা কৃত্রিম কিছু হিসেবে তুলে ধরেছে। তাই অ্যামেরিকার সরকারি নথিতে এআইয়ের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহারের কথা জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গেও অ্যামেরিকার সামরিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে কঠোর বার্তা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, পশ্চিম গোলার্ধে অ্যামেরিকার জন্য হুমকি তৈরি হতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজন হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অ্যামেরিকার সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ ও ‘বিদ্রোহী’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর সদস্য দেশগুলোকে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প। তাঁর এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অ্যামেরিকা কখনো আইসিসির সদস্য ছিল না। তবে ইউরোপসহ অ্যামেরিকার কয়েকটি মিত্রদেশ এই আদালতের সদস্য।
গ্রিনল্যান্ড নিয়েও নতুন সামরিক পরিকল্পনার কথা জানান অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে ভূখন্ডটিতে অ্যামেরিকার সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। ট্রাম্প জানান, আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিকে অ্যামেরিকার সামরিক উপস্থিতি বিস্তৃত করা হবে এবং এর আওতায় দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষণ এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘাত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নিয়ে জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেযও একই দিনে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক কাঠামো তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
