অ্যামেরিকা–ইযরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ও অ্যামেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১৯ ডলারের কাছাকাছি উঠে গেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই ধরনের তেলের দামই দ্রুত বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। ইতোমধ্যে ইরাক, কুয়েতসহ কয়েকটি উৎপাদক দেশে উৎপাদন কমার খবর পাওয়া গেছে এবং কাতারের কিছু গ্যাস কার্যক্রমও স্থগিত হয়েছে।
একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক বাজারে। তেলের দাম বাড়লে পেট্রোল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন খরচও বাড়ে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় বা হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন দীর্ঘ সময় ব্যাহত থাকে, তাহলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।