জাপানের মুদ্রা ইয়েন হঠাৎ করেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, যা বৈশ্বিক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার ইয়েনের এই তীব্র উত্থানের পর টোকিও আবারও সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন জল্পনা বাড়তে শুরু করেছে।
জাপানের শীর্ষ বৈদেশিক মুদ্রা কূটনীতিক আতসুশি মিমুরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে সরকার যেকোনো সময় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তার এই মন্তব্য বাজারে একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ট্রেডারদের মধ্যে সম্ভাব্য ইন্টারভেনশন নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শুক্রবার তিনি আরও জানান, অ্যামেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বিত বোঝাপড়া রয়েছে। অর্থাৎ, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বড় কোনো পদক্ষেপ নিলে তা আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মধ্যেই হতে পারে।
ইয়েনের এই শক্তিশালী হওয়া মূলত ডলারের বিপরীতে দ্রুত পতনের কারণে হয়েছে। লন্ডন সেশনে ডলার প্রায় ০.৬৬ শতাংশ কমে ১৫৭.১২ থেকে নেমে ১৫৫.৬০-এ পৌঁছায়। এতে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বিনিয়োগকারীরা আরও বড় ধরনের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করতে শুরু করেন।
তবে বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ইয়েন এখনো চাপের মধ্যেই রয়েছে। অ্যামেরিকা ও জাপানের সুদের হারের বড় ব্যবধান ইয়েনকে দুর্বল করে রেখেছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে এমন উত্থান দেখা গেলেও, দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাটি ঝুঁকির মধ্যেই থাকছে।
এর পাশাপাশি জাপানের ‘গোল্ডেন উইক’ ছুটির সময় শুরু হওয়ায় বাজারে তারল্য কমে যেতে পারে, যা সাধারণত পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে। এই সময়ে মুদ্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।
মিমুরা সরাসরি কোনো পদক্ষেপের কথা না বললেও তার বার্তা স্পষ্ট—মুদ্রা বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা দেখা দিলে টোকিও তা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রস্তুত।
সামগ্রিকভাবে, ইয়েনের এই ওঠানামা শুধু জাপানের অর্থনীতিই নয়, বরং বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।